আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গাড়ি মেরামতের খরচ বেড়েছে ৬০ শতাংশ
এসব নতুন সরঞ্জামের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের কাঁধেই। গত সাত বছরে এসব গাড়ি মেরামতের খরচ বেড়েছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিশ্বজুড়ে পরিবর্তন এসেছে অটোমোবাইল খাতে। হাইটেকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গাড়ি মেরামতের খরচও। এক্ষেত্রে উন্নত কম্পিউটার, বিশেষ সফটওয়্যার ও সুনির্দিষ্ট যন্ত্রপাতির পেছনে অর্থ গুনতে হচ্ছে গ্যারেজ মালিকদের। এসব নতুন সরঞ্জামের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের কাঁধেই। গত সাত বছরে এসব গাড়ি মেরামতের খরচ বেড়েছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। খবর সিএনবিসি।
নিউইয়র্কের গ্যারেজ মালিক রালফ জিসলার জানান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে এখন সাধারণ কাজ করতেও বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। ব্যবসার খরচ ওঠাতে সেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব ফেলতে হচ্ছে গ্রাহকের ওপর। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের গাড়ির জন্য প্রতি বছর কিনতে হয় নতুন নতুন কম্পিউটার ও সফটওয়্যার। এতে পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে বহু গুণ।
অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক গাড়িগুলো এখন মূলত সফটওয়্যারনির্ভর। ফলে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ছাড়া গাড়ি মেরামত করা প্রায় অসম্ভব। কেবল যন্ত্রই নয়, গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা সার্ভিস ও সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে ফি দিতে হয়। ক্রমান্বয়ে সাবস্ক্রিপশন ফি মেটানো ছোট ও স্বতন্ত্র গ্যারেজগুলোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেন্ট লুইস ফেডের তথ্যানুসারে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত গাড়ি মেরামতের গড় খরচ বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। একই সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৩২ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়েছে গাড়ি মেরামতের ব্যয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গাড়িতে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার-অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা প্রযুক্তির ব্যবহারে মেরামত খরচ আরো বেড়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে কেবল সামনের কাচ বা উইন্ডশিল্ড বদলে ফেললেই চলত, এখন সেই কাচের পেছনে থাকা উন্নত ক্যামেরা ও সেন্সর নিখুঁতভাবে সমন্বয় করতে হয়। এসব সেন্সর সঠিকভাবে সেটিং করা না হলে চলন্ত গাড়ি হঠাৎ ব্রেক কষে বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। এ সেটিং করার একেকটি যন্ত্র ও সফটওয়্যার সেটের পেছনে খরচ হয় হাজার হাজার ডলার।


