শরিয়াহ বোর্ড সদস্যদের পূর্ণ সুরক্ষা ও স্বাধীনতা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশের ইসলামী ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী ও সুশাসনভিত্তিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড সদস্যদের যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের পূর্ণ সুরক্ষা দেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গভর্নর এ কথা বলেন। এ সময় ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নবগঠিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য, বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামা ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আলেম-ওলামারা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার তিনটি মূলভিত্তি—সুদমুক্ত লেনদেন, প্রতারণামুক্ত কার্যক্রম এবং লাভ-ক্ষতির অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, শরিয়াহ সেক্রেটারিয়েট ও অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি এ কমিটিকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।
সভায় উত্থাপিত অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদা একজন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ, শরিয়াহ অডিট বাধ্যতামূলক করা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক কোর ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা। এছাড়া শরিয়াহ বিষয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণ, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ইসলামী অর্থনীতি বিভাগ চালুর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর আইন প্রণয়ন, অর্থ পাচারকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করা এবং সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে তারল্য সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব উঠে আসে। এছাড়া স্বচ্ছতা বাড়াতে ‘শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং’ চালুরও সুপারিশ করা হয়।
সভা শেষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ফের জোর দিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং শরিয়াহ বোর্ডকে কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে হবে।’ এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ইসলামী ব্যাংক খাতে গ্রাহকদের আস্থা ও সুশাসন ফিরে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ড থেকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতি শাহেদ রহমানী, ড. মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ড. মুফতি ইউসুফ সুলতান এবং মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ্। এছাড়া তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান মাদানীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


