শিরোনাম

South east bank ad

অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন

 প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   শেয়ার বাজার

অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।

আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৭০ শতাংশ কমেছে। সূচক কমলেও এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩১ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৫১ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৬ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৮১ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮১টির, কমেছে ১৭৩টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির। আর লেনদেন হয়নি ২২টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রবি ও গ্রামীণফোনের শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের দুই কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৫৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। ফলে বাজারে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। ক্রেতাদের মাঝে শেয়ার ক্রয়ের আগ্রহ থাকলেও অনিশ্চয়তার কারণে সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সাতটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে টেলিযোগাযোগ খাতে। এছাড়া ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ৯২ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে। এছাড়া সাধারণ বীমা খাতে ২ দশমিক ২০ ও সিরামিক খাতে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৯১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৩০ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ৯ হাজার ১০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ১৬৬ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪০ কোটি ৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৭টির, কমেছে ৮৮টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির।

BBS cable ad