শিরোনাম

South east bank ad

দ্বৈত কর পরিহার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমানোর দাবি

 প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   শেয়ার বাজার

দ্বৈত কর পরিহার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমানোর দাবি

ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর কাটা উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করার মাধ্যমে দ্বৈত কর পরিহার এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট করের পরিমাণ কমানোর দাবি জানিয়েছেন অংশীজনেরা।

গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবে তিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই পুঁজিবাজারের তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ আয়ের ওপর কাটা উৎসে করকে ‘চূড়ান্ত কর দায়’ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এটি পুনরায় মূল আয়ের সঙ্গে যোগ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা দ্বৈত করের চাপে পড়েন।

পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান বাড়ানোর দাবি তিন প্রতিষ্ঠানেরই। তারা তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমিয়ে ১৭ দশমিক ৫ বা ১৫ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে। সরকারি ট্রেজারি বন্ড, করপোরেট বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বা সুদ আয়ের ওপর কর অব্যাহতি বা কর কমানোর বিষয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানই জোরালো প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষ করে জিরো কুপন বন্ডের মতো অন্যান্য বন্ডকেও করমুক্ত সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। শেয়ার লেনদেনের ওপর বিদ্যমান ট্যাক্স (০.০৫%) কমিয়ে ০.০১৫ থেকে ০.০২০ শতাংশের মধ্যে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে বাজারের লেনদেনের গতি বাড়ে।

তাছাড়া তিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বেশকিছু আলাদা প্রস্তাব বাজেটে বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ডিবিএর পক্ষ থেকে যেসব বড় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা, টার্নওভার ১ হাজার কোটি টাকা বা ব্যাংক ঋণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি—তাদের সরাসরি পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করতে এ বিশেষ আইনি কাঠামো প্রবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি তিন বছর ধরে এজিএম করেনি বা লভ্যাংশ দেয়নি, তাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর সুবিধা বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যয়কে কর রেয়াতের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে তারা।

ডিএসইর পক্ষ থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি ট্রেজারি বন্ড, গ্রিন বন্ড ও সোশ্যাল বন্ড থেকে অর্জিত আয় আগামী পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ কর সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই।

সিএসই নিজেদের কমোডিটি এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের কর অবকাশ সুবিধা চেয়েছে। তাছাড়া পুঁজিবাজারকে ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন থেকে সরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি সমন্বিত আর্থিক কাঠামোর ওপর জোর দিয়েছে এক্সচেঞ্জটি। বিদেশী বা অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর সিএসই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

BBS cable ad