যুদ্ধ শুরুর পর বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি
পুঁজিবাজারে সূচকের ওঠানামায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফ্রি ফ্লোট শেয়ার।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফ্রি ফ্লোট বাজার মূলধনের ভিত্তিতে শীর্ষ কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন কমেছে। আলোচ্য সময়ে পুঁজিবাজারের ফ্রি ফ্লোট শেয়ারের শীর্ষ ১০ কোম্পানি মোট বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৫২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন কমেছে ইসলামী ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ব্র্যাক ব্যাংকের।
যুদ্ধ শুরুর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ফ্রি ফ্লোট বাজার মূলধনি শীর্ষ ১০ কোম্পানির মোট বাজার মূলধন ছিল ৫৮ হাজার ২২২ কোটি টাকা। গতকাল লেনদেন শেষে কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৬৯২ কোটি টাকায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের বাজার মূলধন ছিল ৭ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা, গতকাল শেষে তা ৯১৬ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৯১ কোটি টাকায়।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বাজার মূলধন ছিল ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, গতকাল শেষে তা ৮২৮ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকায়। স্কয়ার ফার্মার ২৬ ফেব্রুয়ারি বাজার মূলধন ছিল ১১ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা, গতকাল শেষে তা ৭৩৮ কোটি টাকা কমে ১০ হাজার ৭৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়ালটনের বাজার মূলধন ছিল ৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা, গতকাল শেষে তা ৩৯৪ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৪৬ কোটি টাকায়। ব্র্যাক ব্যাংকের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাজার মূলধন ছিল ৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা, গতকাল শেষে তা ৩৬৪ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকায়।
এছাড়া আলোচ্য সময়ে গ্রামীণফোনের ২০৮ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংকের ২০৬ কোটি ও বেক্সিমকো ফার্মার ১৪০ কোটি টাকা বাজার মূলধন কমেছে। তবে এ সময় ফ্রি ফ্লোট বাজার মূলধনের দিক দিয়ে শীর্ষ কোম্পানি শুধু সিটি ব্যাংকের বাজার মূলধন ২৬৫ কোটি টাকা বেড়েছে। গতকাল শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি যা ছিল ৩ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানির বাজার মূলধন অপরিবর্তিত ছিল। কোম্পানিটির বাজার মূলধন ৬ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা রয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ওঠানামার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় সূচকের উত্থান-পতন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স হিসাব করা হয় মোট ফ্রি ফ্লোট বাজার মূলধনের ভিত্তিতে। বাজার মূলধন নির্ধারণে ফ্রি ফ্লোট পদ্ধতিকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ লেনদেনের জন্য সক্রিয় থাকা শেয়ারগুলোর ভিত্তিতে এটা নির্ধারণ করা হয় বলে বাজারের গতিপ্রকৃতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চিত্রও উঠে আসে।
যুদ্ধ শুরুর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইএক্স সূচকের অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে, গতকাল লেনদেন শেষে সূচকটি ৪২১ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর মোট বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা, গতকাল শেষে তা ২৯ হাজার ৫৩১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা কমে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।


