শিরোনাম

South east bank ad

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে জমি ও কর সুবিধা দেবে সরকার

 প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে জমি ও কর সুবিধা দেবে সরকার

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেন, সৌর প্যানেল, ফটোসেল ও ব্যাটারির ওপর কর কমানোর বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডে দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হতে পারে।

গতকাল বিনিয়োগ ভবনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত ​জাতীয় বিশেষ শিল্পনগরে (এনএসইজেড) অবস্থিত সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বেস) পিপিপি প্রকল্প নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে এ মতবিনিময় কর্মশালা আয়োজন করে বেজা।

সভায় সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, কারিগরি কাঠামো এবং বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে এডিবির পক্ষ থেকে ৪১২ একর জমির সংস্থান, সঞ্চালন লাইনের পরিকল্পনা এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে জুনের মধ্যেই একটি বিনিয়োগবান্ধব ও বিনিয়োগমুখী নীতি ঘোষণা করবে সরকার। তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কী ধরনের সুবিধা দেয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’

সৌর প্যানেল, ফটোসেল ও ব্যাটারির ওপর কর কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে পাঁচ বছর কর অবকাশ দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া যেতে পারে। শুরুতে বিনিয়োগ বাড়াতে সুবিধা দিলে পরবর্তী সময়ে সরকার রাজস্ব পাবে।’

সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘সরকারি মালিকানাধীন উপযুক্ত জমি পিপিপি কাঠামোর আওতায় ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্প উন্নয়ন ঝুঁকি কমবে এবং আরো বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।’ সোনাগাজীতে ১৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি সফল হলে দেশে আরো অনেক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের পথ খুলে যাবে।’

সভায় বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বেজা, বিদ্যুৎ বিভাগ, ইউএনডিপি ও এডিবির সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। সরকারি জমি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় জমি সংকট কমবে। পাশাপাশি দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) যুক্ত হওয়ায় এটি গ্রিড ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে সরকারি অব্যবহৃত জমিতে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এটি উদাহরণ হবে।

সভার উপস্থাপনায় এডিবির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কম্বোডিয়া ও উজবেকিস্তানে তারা একই মডেল ব্যবহার করে বিদ্যুতের দাম বা ট্যারিফ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। সোনাগাজী প্রকল্পেও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারের মাধ্যমে সবচেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি ‘বিল্ড-ওউন-অপারেট-ট্রান্সফার’ মডেলে পরিচালিত হবে। যার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণ ও ২০ থেকে ২৫ বছর পরিচালনা করবে এবং পরবর্তী সময়ে তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। প্রকল্পটি পিপিপি নির্দেশিকা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে এডিবি মূল উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে।

উপস্থাপনায় বলা হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য ১২ থেকে ১৮ মাস সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সোলার প্যানেল স্থাপন, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম এবং মিরসরাই সাবস্টেশন পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৮ সালের শুরুর দিকে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করবে।

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: