শিরোনাম

South east bank ad

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৬৪,৪০৬ কোটি টাকা

 প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৬৪,৪০৬ কোটি টাকা

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই খেলাপির খাতায় উঠেছে। খেলাপি হওয়া এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে বিপুল অংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে পারছে না ব্যাংকটি। এতে গত বছরের শেষে ব্যাংকের প্রকৃত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৬৪ হাজার ৪০৬ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা পদ্মা সেতু নির্মাণ ব্যয়েরও দ্বিগুণ। জনতা ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে অনুসৃত ব্যাসেল-৩ নীতির আলোকে জনতা ব্যাংককে ১২ হাজার ৯১৮ কোটি টাকার মূলধন সংরক্ষণ করতে হতো। কিন্তু গত বছর শেষে ব্যাংকটি মূলধন রাখতে তো পারেইনি, উল্টো ১৬ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা ঘাটতিতে ছিল। একই সময়ে ৫৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার প্রভিশন বা সঞ্চিতি ঘাটতিতে ছিল ব্যাংকটি। নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের প্রকৃত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৬৪ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিতরণকৃত ঋণের দুই-তৃতীয়াংশ খেলাপি হয়ে যাওয়ার ধাক্কায় জনতা ব্যাংকের আয়েও বিপর্যয় নেমেছে। কেবল ২০২৫ সালে ব্যাংকটি সুদ খাতে লোকসান গুনেছে ৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। ব্যাংকটি এখন টিকে আছে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদ আয়ের ওপর। গত বছর বিনিয়োগ বা সরকারি কোষাগার থেকে ব্যাংকটি ৩ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে। এরপরও বছর শেষে ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা নিট লোকসান দিয়েছে জনতা ব্যাংক। এর আগে ২০২৪ সালেও ব্যাংকটি ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছিল। সে হিসাবে মাত্র দুই বছরে সরকারি খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ব্যাংকটি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা নিট লোকসান গুনল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনতা ব্যাংকের আজকের যে বিপর্যয়, সেটির সূত্রপাত ২০০৯ সাল-পরবর্তী সময়ে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকগুলোর মতো জনতা ব্যাংকেও রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে পর্ষদ গঠন করেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত। দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ থেকে বিদায় নেন। আর এ সময়ে ব্যাংকটির পর্ষদে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের প্রাধান্য ছিল।

জনতা ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও পরিচালনায় যে অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু হয়েছিল, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ, কর্মীদের পদোন্নতি, ঋণ বিতরণসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। এ কারণে ব্যাংকের বিতরণকৃত বড় ঋণের প্রায় সবই এখন খেলাপি। ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত জামানতও নেই। জামানতের সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নিলেও সেগুলো কেউ কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না। এতে ব্যাংকের দুই-তৃতীয়াংশ ঋণই গভীর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জনতা ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনেও এ আশঙ্কার সত্যতা মিলছে। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা নিয়েছে মাত্র পাঁচটি গ্রুপ। এ গ্রুপগুলোর মধ্যে কেবল সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকোর কোম্পানিগুলো ঋণ নিয়েছে ২৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এছাড়া এস আলম গ্রুপ ১১ হাজার ৬৫ কোটি, এননটেক্স ৮ হাজার ৭৪ কোটি, ক্রিসেন্ট গ্রুপ ৪ হাজার ১৪ কোটি এবং ওরিয়ন ২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে জনতা ব্যাংক থেকে।

বেক্সিমকো গ্রুপের ২৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে কেবল বেক্সিমকো ফার্মার ৪৪০ কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত রয়েছে। বাকি পুরো ঋণই এখন খেলাপি। আর এস আলম, এননটেক্স ও ক্রিসেন্টের ঋণও খেলাপি। এর মধ্যে ওরিয়ন গ্রুপ ঋণ পুনঃতফসিলের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিপুল লোকসান, খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির মধ্যেও টিকে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যাংকের ১০০ টাকা ঋণের ৭০ টাকা খেলাপি হয়ে গেলে সেটির পক্ষে মুনাফা করা সম্ভব নয়। জনতা ব্যাংকের ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই এখন খেলাপি। বাকি ৩০ শতাংশ ঋণের একটি অংশ আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এ ঋণের সুদ মাত্র ৪ শতাংশ। আর কিছু ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়েছে। গ্রেস পিরিয়ডের কারণে এ ধরনের ঋণ থেকেও তেমন কোনো আদায় নেই। তারপরও আমরা বিনিয়োগ ও কমিশন থেকে আয় বাড়িয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছি।’

মো. মজিবর রহমান আরো বলেন, ‘জনতা ব্যাংকের কর্মীদের প্রতি মাসে ১২৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ পরিমাণ অর্থও আয় করা কঠিন। এ ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের প্রায় অর্ধেক মাত্র পাঁচটি গ্রুপের কাছে, যা এখন খেলাপি। বেক্সিমকো ও এস আলম গ্রুপের কোনো খবর নেই। এ দুই গ্রুপের ঋণের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হলে আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে জনতা ব্যাংকের আমানতের স্থিতি ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এ অর্থের জন্য আমানতকারীদের ৮ হাজার ৮০৭ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করেছে ব্যাংকটি। বিপরীতে বিতরণকৃত ঋণ থেকে সুদ আয় হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে সুদ খাতে ব্যাংকটির লোকসানের পরিমাণ ৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে সুদ খাতে ৩ হাজার ৪২ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছিল জনতা ব্যাংক। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সুদ খাতে ব্যাংকটির লোকসান প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ভাবমূর্তি সংকট ও আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে জনতা ব্যাংক এখন উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। এতে ব্যাংকটির তহবিল সংগ্রহ ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশে ঠেকেছে। অথচ রাষ্ট্র মালিকানাধীন হওয়ার কারণে ব্যাংকটি বিনা সুদ কিংবা স্বল্প সুদে সরকারি তহবিল পেয়ে থাকে।

আর্থিক বিপর্যয়ে পড়লেও পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনতে পারছে না জনতা ব্যাংক। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয় ছিল ১ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। গত বছরে এ ব্যয় বেড়ে ২ হাজার ৬১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এ সময়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাই মূলত বেশি বেড়েছে। গত বছর বেতন-ভাতা বাবদ জনতা ব্যাংকের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। গড়ে প্রতি মাসে ব্যাংকটির কর্মীদের ১২৬ কোটি টাকা বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে।

জনতা ব্যাংক যে মাত্রার বিপর্যয়ে পড়েছে, সেখান থেকে দেশের কোনো ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর নজির নেই বলে মনে করেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। ২০০৯ সাল-পরবর্তী তিন বছরে লুণ্ঠনের শিকার রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে। জোগান দেয়া মূলধনও ব্যাংকটিকে টেনে তুলতে পারেনি। উল্টো এখন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংক প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার নিট লোকসান গুনেছে। আর ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ঠেকেছে ৮ হাজার কোটি টাকায়। বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশ খেলাপি নিয়ে ধুঁকছে এ ব্যাংকটি।

লুণ্ঠনের শিকার বেসরকারি পদ্মা ব্যাংককে (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) টেনে তোলার কথা বলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৭১৫ কোটি টাকার মূলধন জোগান দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে দেয়া হয়েছিল কয়েক হাজার কোটি টাকার তারল্য ও নীতিসহায়তা। কিন্তু ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ ব্যাংকটিকেও টেনে তোলা সম্ভব হয়নি। অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের শিকার হওয়া শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে হাজার হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সেগুলোও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূলধন হিসেবে ২০ হাজার কোটি টাকার জোগান দিয়েছে। যদিও এ ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু নিয়েই এখন ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

মূলধন খেয়ে ফেলা ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের অনেক বেসরকারি ব্যাংকও মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এ সংখ্যা এখন দুই ডজনেরও বেশি। এর মধ্যে কিছু ব্যাংককে কোনোভাবেই বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। জনতা ব্যাংক যে পরিস্থিতিতে পড়েছে, তাতে এটিকে টেনে তোলার যেকোনো পদক্ষেপই ভুল হিসেবে পরিগণিত হবে।’

সরকারের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) পদে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক এ অর্থ সচিব বলেন, ‘মূলধন জোগান দেয়ার পর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বেসিক ব্যাংককে বাঁচানোর জন্য সরকার জনগণের করের অর্থ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছিল। কিন্তু সেটি ৩-৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পদ্মা ব্যাংককে বাঁচানোর কথা বলেও সরকারি ব্যাংক থেকে মূলধন জোগান দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ফলাফল শূন্য। আমি মনে করি, জনতার মতো পরিস্থিতিতে পড়া ব্যাংকগুলোকে অবসায়ন করাই একমাত্র পথ। এ ব্যাংকগুলোকে বাঁচানোর কথা বলে মূলধন জোগান দেয়া হবে জনগণের অর্থের অপচয়।’

প্রায় একই ধরনের মতামত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্বরত এ অর্থনীতিবিদ বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদেও রয়েছেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে বহুবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সরকারি কোষাগার থেকে মূলধনের জোগান দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি কোনো ফল বয়ে আনেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের করের অর্থ থেকে কোনো মূলধন জোগান দেয়া সম্ভব নয়। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে এখন নিজেদের প্রচেষ্টায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় এসব ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।’

ড. ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, ‘জনতা ব্যাংকের যেসব ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে, সেগুলো আদায়ে জোর দিতে হবে। আর ব্যাংকের কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। কার্যকর সুশাসন ও অটোমেশনের মাধ্যমে ব্যাংকটির কার্যক্রমে গতি আনা দরকার।’

BBS cable ad

ব্যাংক এর আরও খবর: