ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির ৩০ শতাংশ মালিকানা কিনবে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স
বীমা খাতে তালিকাভুক্ত প্রগতি ইন্স্যুরেন্স পিএলসির পর্ষদ একটি ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির ৩০ শতাংশ মালিকানা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সভায় কোম্পানিটির চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তথ্যানুসারে, প্রস্তাবিত ফার্স্ট ন্যাশনাল ক্রেডিট ব্যুরো লিমিটেডের (এফএনসিবিএল) পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ। এতে ব্যয় হবে ৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রস্তাবিত এ ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিটির কার্যক্রম শুরু হবে।
চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৬১ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ। এর মধ্যে ২৭ শতাংশ নগদ ও ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ২৪ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৩৬ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৭ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ স্টক। আলোচ্য হিসাব বছরে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৬১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৫৮ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৩৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৩৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ৯৭ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৬৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৭২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ১ পয়সায়।
প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের সার্ভিলেন্স এনটিটি রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর)।
১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৫৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ১২ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৯। এর ৩৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


