শিরোনাম

South east bank ad

সাত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

 প্রকাশ: ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   বাংলাদেশ ব্যাংক

সাত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

দেশের উৎপাদনশীল খাত, শিল্প ও সেবা খাত, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং রফতানি বহুমুখীকরণে অর্থায়ন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল বাস্তবায়নে সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গণমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি নিজেদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে এ তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তার লক্ষ্যে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন উদ্যোগের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন অর্থায়নে এ প্যাকেজ গঠন করা হয়েছে।

এ অর্থায়নের মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি, রফতানি বহুমুখীকরণ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ১০ হাজার কোটি টাকা আর দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র তৈরিতে ৩ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনেও ভূমিকা রাখবে এ স্কিম। স্কিমের আওতায় শস্য ও ফসল উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং গ্রামীণ ও পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ নেয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শস্য ও ফসল উৎপাদনের জন্য একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে এ সীমা ২০ লাখ টাকা। আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য পল্লী ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়ার সুযোগ থাকছে। এছাড়া ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে এসব কৃষক কোনো জামানত ছাড়াই এককভাবে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। এ ঋণের বিপরীতে শুধু উৎপাদিত শস্য ও ফসল দায়বদ্ধকরণ হিসেবে থাকবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স বিভাগের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ তহবিলটির গুরুত্ব ও বহুমুখী ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত ৪১ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’

BBS cable ad

বাংলাদেশ ব্যাংক এর আরও খবর: