শিরোনাম

South east bank ad

পুঁজিবাজারে যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তি নিয়োগ করতে হবে

 প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   শেয়ার বাজার

পুঁজিবাজারে যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তি নিয়োগ করতে হবে

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (বিএসইসি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোয় আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা প্রদানের মাধ্যমে যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপথ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কাঠামোগত রূপান্তর নিয়ে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ ‘‌পোস্ট ইলেকশন হরাইজন: ইকোনমি, পলিটিকস অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এমএ রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসানুর রহমান। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম।

সম্মেলনে জুমের মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত তুলে ধরেন। ব্ল্যাকরকের ফান্ডামেন্টাল ইকুইটিজ বিভাগের ইমার্জিং মার্কেট ও ফ্রন্টিয়ার টিমের সহপ্রধান, পোর্টফোলিও ম্যানেজার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গর্ডন ফ্রেজার বলেন, ‘‌আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ঠিক করা।’

কনটেক্সচুয়াল ইনভেস্টমেন্ট এলএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকাও হিরোশি বলেন, ‘‌নির্বাচনের আগে ও পরে সাধারণত মানুষ কিছুটা চাপের মধ্যে থাকে। এজন্য আমরা আগে পরিস্থিতি স্থিতিশীল কিনা তা নিশ্চিত করতে চাই, তার পরে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।’

টুন্ড্রা ফন্ডারের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা এবং ফাউন্ডিং পার্টনার ম্যাটিয়াস মার্টিনসন বলেন, ‘‌বাংলাদেশে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বেশ জটিল, এটিকে ভিয়েতনামের মতো সহজ করতে হবে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বাড়ানো হলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।’

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‌পুঁজিবাজারে শুধু সরকারি কোম্পানিই নয়, বেসরকারি খাতের ভালো কোম্পানিগুলোকেও নিয়ে আসা প্রয়োজন। যে কেউ পুঁজিবাজারে আসার আগে চিন্তা করবে যে তারা কোথায় আসছে, এখানে তাদের শেয়ারের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত হবে কিনা, নাকি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শেয়ারদর নিয়ে কারসাজি করা হবে। তাই পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা না হলে এখানে কেউ আসতে আগ্রহী হবে না। এজন্য ব্রোকার, স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসি সবাইকে মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীতে দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমাদের ভালো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি, এনবিআর, বিডা, বিটিআরসি এগুলো হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এগুলোকে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো চালানো যাবে না। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা প্রদানের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।’

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ‘‌ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ন্যায়, নৈতিক শাসন এবং মানবকল্যাণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এটি ইসলামী অর্থনীতির মূল নীতি। তবে এর মানে এই নয় যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তন আনা হবে। আমরা একটি বাস্তবমুখী এবং ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পন্থা সমর্থন করি, যেখানে নৈতিক ও সুদবিহীন আর্থিক বিকল্পগুলো প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সহাবস্থান করবে।’

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাশুরুর আরেফিন বলেন, ‘‌অতীতে ব্যাংক খাতে যে ধরনের লুটপাট, অর্থ পাচার ও বেনামি ঋণের ঘটনা দেখা গেছে। আমরা এগুলোর পুনরাবৃত্তি চাই না। আশা করছি সামনে নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি ভালো রাজনৈতিক সরকার পাব। ব্যবসায়ীরা চাইলেও সুদহার কমাতে না পারার কারণ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি না কমলে নীতি সুদহার কমানো সম্ভব নয়।’

বিএসইসি কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ‘‌পুঁজিবাজার সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় কমিশন তিনটি বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। ব্যাংকগুলো মূলত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থায়নে সীমাবদ্ধ থাকবে, আর দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের চাহিদা পূরণ হবে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে। আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য এ মেয়াদভিত্তিক ও কাঠামোগত বিভাজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

BBS cable ad