প্রকৌশল, সিমেন্ট ও ওষুধ খাতের শেয়ারদরে নিম্নমুখিতা
পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেনও বেড়েছে সামান্য। তবে এদিন প্রকৌশল, সিমেন্ট এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতসহ আরো সাতটি খাতের শেয়ারদরে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৯৮ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন সামান্য কমে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫৫৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন বেড়েছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৯৪টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ৭১টির।
ডিএসইতে ২০টি খাতের মধ্যে গতকাল প্রকৌশল খাতের ৩০ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে, বেড়েছে ১০টির আর অপরিবর্তিত ছিল দুটির। সিমেন্ট খাতের তিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে, বেড়েছে তিনটির আর অপরিবর্তিত ছিল একটির। ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২০ কোম্পানির শেয়ারদর গতকাল কমেছে, বেড়েছে ১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল তিনটির। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১২ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে, বেড়েছে ছয়টির আর অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটির। এছাড়া গতকাল বীমা, মিউচুয়াল ফান্ড, তথ্যপ্রযুক্তি, পাট, করপোরেট বন্ড এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারদরে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।
গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ১০ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ ও জীবন বীমা খাতে দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে ডিএসইতে গতকাল সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা ও আবাসন খাতে। এছাড়া ব্যাংক খাতে দশমিক ৯ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ১৬ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৪১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৪৬ দশমিক ৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৫০ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ৯৩টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির। গতকাল সিএসইতে ১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।


