তিন কোম্পানির পরিচালক ও কর্মকর্তাদের অর্থদণ্ড
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।
অন্যদিকে জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি ও আফতাব অটোমোবাইলস পিএলসি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে কোম্পানি তিনটির পরিচালক ও কর্মকর্তাদের প্রায় ৩ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১ হাজার ১৪তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কমিশন সভা শেষে বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০২২-২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। এক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, এমডিসহ তিন পরিচালক ও দুই কর্মকর্তাকে অর্থদণ্ড দিয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এনামুল কবির খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তোফায়েল কবির খান, পরিচালক মো. রুহুল কবির খান, হযরত আলী ও জেরিন কবির খান—প্রত্যেককে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. আজিজুল জব্বারকে ১০ লাখ ও কোম্পানি সচিব তপন কুমার সরকারকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। কিন্তু কোম্পানিটি এ নগদ লভ্যাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। বিধি অনুসারে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লভ্যাংশ না দেয়ার কারণে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও কর্মকর্তাদের জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজালাল উদ্দিন, পরিচালক চৌধুরী ফজলে ইমাম, প্রিন্স মজুমদার, ওরাকল সার্ভিসেস পিএলসি ও নিলুফার ইমাম, তৎকালীন সিএফও ও কোম্পানি সচিব—প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আফতাব অটোমোবাইলস ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। কিন্তু কোম্পানিটি ঘোষিত মোট ৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৬৪ টাকার নগদ লভ্যাংশের মধ্যে ৬ কোটি ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৮১৪ টাকা পরিশোধ করে এবং বাকি ১ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৯ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়। বিএসইসির আদেশ জারির পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এ অপরিশোধিত নগদ লভ্যাংশ পরিশোধ করতে হবে বলে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অবণ্টিত লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের এ সময় শেষ হওয়ার পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে অর্থদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান শফিউল ইসলামকে ৩০ লাখ; পরিচালক খালেদা ইসলাম, সাজেদুল ইসলাম ও ফারহানা ইসলাম প্রত্যেককে ২০ লাখ; এমডি সাইফুল ইসলামকে ৩০ লাখ, তৎকালীন সিএফওকে ১০ লাখ ও কোম্পানি সচিবকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গতকালের কমিশন সভায় দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা ও ডেপুটি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুসারে বিএসইসির ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি ডিভিশনের নির্বাহী পরিচালককে সমন্বয়ক এবং যুগ্ম পরিচালক মো. শরিফুল আলমকে ফোকাল পয়েন্ট ও সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলামকে ডেপুটি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাসিক সমন্বয় সভার ব্যবসা-বাণিজ্য শীর্ষক আলোচনায় নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ সচেতনতা বিষয়ে এজেন্ডা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ফোকাল পয়েন্ট ও ডেপুটি ফোকাল পয়েন্ট কর্তৃক সার্বক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজনবোধে যোগাযোগ রক্ষার্থে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার/সিনিয়র সহকারী কমিশনার, ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখায় ফোকাল পয়েন্ট ও ডেপুটি ফোকাল পয়েন্ট কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ ও সহযোগিতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ওই ফোকাল পয়েন্ট ও ডেপুটি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ জেলা তথ্য অফিগুলোতে পাঠানোর সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।


