শিরোনাম

South east bank ad

কভিডের পর দেশের পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় দরপতন

 প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   শেয়ার বাজার

কভিডের পর দেশের পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় দরপতন

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রভাবে গতকাল দেশের পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে।

এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। সূচক ছাড়াও এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে। তবে শেয়ার বিক্রির চাপে দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই দৈনিক লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের কারণে নিম্নমুখী ছিল সূচক, যা লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ২০৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৭৩৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৮৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৩৬ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৩৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৯৯ পয়েন্ট। এর আগে কভিডের সময় ২০২০ সালের ৯ মার্চ ডিএসইএক্স সূচক একদিনে ২৭৯ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ কমেছিল। তার পর থেকে গতকালের আগ পর্যন্ত দেশের পুঁজিবাজারে এত বড় দরপতন দেখা যায়নি।

গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৮৮৫ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৭৮০ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর কমেছে ৩৪৯টির, বেড়েছে ৩১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১১টির বাজারদর।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। এ যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে অঞ্চলটি থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের বড় ধরনের নির্ভরতা থাকার কারণে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ কারণে গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিতে শুরু করেন, যার ফলে দিন শেষে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। বস্ত্র খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৭ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ও জীবন বীমা খাতে ৫ দশমিক ৬, পাট খাতে ৫ দশমিক ৪ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ২৭০ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৪১৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২১৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ১৫৩টির, বেড়েছে ৪৫টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

BBS cable ad