শিরোনাম

South east bank ad

বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ সংস্থার শেয়ারে বড় দরপতন

 প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   শেয়ার বাজার

বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ সংস্থার শেয়ারে বড় দরপতন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের চরম ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ চলাচল খাতকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গতকাল লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে এশিয়ার অধিকাংশ উড়োজাহাজ সংস্থার শেয়ারদরে বড় ধরনের ধস নেমেছে। খবর রয়টার্স।

গতকাল লেনদেনে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর শেয়ারদর ৪ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। দরপতনের শিকার হওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক, জাপান এয়ারলাইনস, কোরিয়ান এয়ারলাইনস এবং চীনের বড় দুই এয়ারলাইনস চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন। এছাড়া ভারতের ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটের শেয়ারদর যথাক্রমে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

এয়ারলাইন অ্যানালিস্ট ব্রেন্ডন সোবি জানান, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ চেইনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এমনিতেই বৈশ্বিক উড়োজাহাজ চলাচল খাত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বর্তমান সংকট সেই অনিশ্চয়তাকে আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি খরচ হয় জ্বালানির পেছনে। তেলের দাম ২০ শতাংশ বাড়ায় জেট ফুয়েলের দাম তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিমান সংস্থাগুলোর ওপর বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়া প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের প্রধান সুভাস মেনন জানান, আকাশপথ বন্ধ থাকায় উড়োজাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যার ফলে ক্রুদের ওপর কাজের চাপ বাড়ছে এবং জ্বালানি খরচও অনেক বেড়ে গেছে। যদিও কিছু ইউরোপীয় ও এশীয় উড়োজাহাজ সংস্থা ‘অয়েল হেজিং’ বা জ্বালানি খরচ সুরক্ষা কৌশল ব্যবহার করে, তবে মার্কিন এয়ারলাইরনগুলো গত দুই দশকে এ ব্যবস্থা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ থাকা ও সংঘাতের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অন্তত ৩৭ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন এবং সংঘাতময় এলাকা থেকে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছতে আকাশচুম্বী অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে অনেককে ব্যক্তিগত জেট বা চার্টার ফ্লাইটে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনায় সাধারণ যাত্রীসেবা ব্যাহত হয়েছে।

তুরস্কের ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার আবদুলকাদির উরালোওলু জানিয়েছেন, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডানের রুটে তুর্কি এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট ১৩ মার্চ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়া ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন থেকে শুরু করে আফগানিস্তান ও বর্তমান ইসরায়েল সংঘাত, একাধিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আকাশপথে সামরিক ড্রোনের আধিক্যের কারণে বৈমানিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ব্যাপক চাপ পড়ছে। পাইলটরা জানিয়েছেন, ছোট হয়ে আসা আকাশপথ ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা তাদের জন্য অত্যন্ত মানসিক চাপের একটি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ইউরোপ থেকে এশিয়া ও অস্ট্রেলেশিয়াগামী যাত্রীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং অস্ট্রেলিয়াগামী অর্ধেক যাত্রী বহন করে। এ বড় এয়ারলাইনসগুলো এখন নিজেদের রুট পরিবর্তন করতে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি উড়োজাহাজ চলাচল ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার কোনো দ্রুত সমাধানের পথ আপাতত দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

BBS cable ad