একদিনে সূচক কমেছে ৪ শতাংশের বেশি
দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল বড় দরপতন হয়েছে।
এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। সূচক কমলেও এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের কারণে নিম্নমুখী ছিল সূচক, যা লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ২৩১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ২৪১ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৯১ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১২ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৩৫ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৪৯ পয়েন্ট।
এ বছরের শুরুতে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্ট নিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সূচক প্রায় ৭৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়, বিপরীতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এ হামলার প্রভাবে গত সপ্তাহে সূচক কমে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। যদিও এর মাঝে ২ মার্চ সূচক কিছুটা বাড়লেও তা স্থায়ী হয়নি। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এ সংঘাতের প্রভাব বাড়তে থাকায় চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সূচকে বড় দরপতন দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত গতকালের বড় দরপতনের ফলে সূচক দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯ পয়েন্টে। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সূচক কমেছে ৫৯১ পয়েন্ট।
গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সিটি ব্যাংক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার। এ পাঁচ কোম্পানির দরপতনে সূচক কমেছে ৭৯ দশমিক ৮ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গতকাল ৫৩১ কোটি ৮৮ লাখ ৬ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪৫৯ কোটি ৪২ লাখ ৭ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০টির, কমেছে ৩৭১টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল নয়টির।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে লোকসান কমাতে শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকছেন। শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় সূচকে বড় দরপতন হয়েছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৩ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৭ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। বস্ত্র খাত ৮ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৫ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫ দশিমক ৫ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এছাড়া ব্যাংক খাতে ৬ দশমিক ২, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৫ দশমিক ৫, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৫ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ২৫৫ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৮০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৪১৯ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৪০১ ৪০৫ দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৬৪ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, কমেছে ১৪৫টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল দুটির। গতকাল সিএসইতে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।


