কারণ ছাড়াই বাড়ছে প্রাইম টেক্সটাইলের শেয়ারদর
প্রাইম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ দরবৃদ্ধির পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চিঠির জবাবে বিষয়টি জানিয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি। ডিএসই সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে গত ১৯ ফেব্রুয়রি প্রাইম টেক্সটাইলের শেয়ারদর ছিল ১৩ টাকা ৭০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল লেনদেন শেষে কোম্পানিটির দর দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৩০ পয়সায়। এ সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
কাঁচামাল সংকট এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে প্রাইম টেক্সটাইলের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত পুনরায় উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়নি। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২২-২৩ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
মূলত ডিএসইর পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই প্রাইম টেক্সটাইলের ছয় মাসের উৎপাদনের অবস্থা জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটি জানায় যে ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে তাদের কারখানা বন্ধ রয়েছে।
আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটির পর্ষদ। সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে প্রাইম টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ৮৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে প্রাইম টেক্সটাইলের ইপিএস হয়েছে ৪৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৪ টাকা ৬৫ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে প্রাইম টেক্সটাইলের ইপিএস হয়েছে ৬২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ৬৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ৯৩ পয়সায়।
১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাইম টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৭১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৮২ লাখ। এর ৫০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিব বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫ দশমিক ৪৫, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ২৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


