চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৩ শতাংশ
আইএমএফের গত জুলাইয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ঊর্ধ্বমুখী দাম, সরকারি ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি কমানোর প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খবর আরব নিউজ।
AKIJ Advertisement
ওয়াশিংটনে আইএমএফের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল সংস্থার মুখপাত্র জুলি কোজাক আন্তর্জাতিক অর্থনীতির এমন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে যুদ্ধ চললেও বিশ্ব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই এ ধাক্কা সামলিয়েছে। তবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার এখনো ঊর্ধ্বমুখী। ফলে যুদ্ধের ধাক্কায় তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম দিকে বিশ্বজুড়ে অনেক দেশই নিজেদের জরুরি জ্বালানি মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক ওয়েল রিজার্ভ ব্যবহার করে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছে। এছাড়া অনেক দেশ বিকল্প জ্বালানির উৎসের দিকে ঝুঁকেছে কিংবা অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধজনিত সংকটের সরাসরি প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বেশ শ্লথই রয়ে গেছে।’
আইএমএফের গত জুলাইয়ে প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ। এটি ২০২৪ ও ২০২৫ সালের গড় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় স্পষ্টতই কম। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেয়া পূর্বাভাসে আইএমএফ ধারণা করেছিল, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ হয়তো প্রশমিত হতে শুরু করবে। কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত। অঞ্চলটিতে সামরিক সংঘাত কমে আসার বদলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরো তীব্র রূপ নিয়েছে। এমনকি ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা বাড়ায় যুদ্ধ এখন আরো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববাজারকে প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীল করে তুলছে।


