শিরোনাম

South east bank ad

নড়াইলের বিলে হাঁস পালনে ঝুঁকছেন বেকার তরুণরা, ২২ কোটি টাকার ডিম উৎপাদন

 প্রকাশ: ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

নড়াইলের বিলে হাঁস পালনে ঝুঁকছেন বেকার তরুণরা, ২২ কোটি টাকার ডিম উৎপাদন

নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বিলের পানিতে হাঁস পালনে ঝুঁকছেন বেকার তরুণরা। প্রতি বছর এসব মৌসুমি খামারি মাত্র ছয়-সাত মাস হাঁস পালন করে আয় করছেন ২ থেকে ১০ লাখ টাকা।

খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁস পালন করতে পারায় অল্প খরচে তুলনামূলক বেশি লাভ পাচ্ছেন তারা। এতে বাড়ছে উদ্যোক্তা ও খামারের সংখ্যা, তেমনি বাড়ছে ডিম উৎপাদনও। জানা গেছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে খামারিরা প্রায় দেড় কোটি হাঁসের ডিম উৎপাদন করছেন, যার বাজারমূল্য ২২ কোটি টাকার বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল থেকে প্রতি বছর মোট ১৩ কোটি ৫০ লাখ হাঁস-মুরগির ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে কেবল হাঁসের ডিমই প্রায় দেড় কোটি, বর্তমানে যার বাজারমূল্য অন্তত ২২ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সকালে খামার থেকে সংগৃহীত ডিম ব্যবসায়ীদের কাছে ১৫ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি খামারের প্রায় ৯০ শতাংশ হাঁসই নিয়মিত ডিম পাড়ে। বছরে টানা সাত-আট মাস পর্যন্ত এসব খামার থেকে পর্যাপ্ত ডিম পাওয়া যায়, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

কৃষিপ্রধান জেলা নড়াইলের আয়তন ৯৬৮ বর্গকিলোমিটার। প্রায় আট লাখ মানুষের বসবাস এ জেলা বিল ও ঘেরবেষ্টিত। এ জনপদের মানুষের প্রধান জীবিকার উৎস কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ। জেলায় তেমন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় ৮২ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। বিসিক শিল্প নগরীবিহীন এ জেলায় ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তেমন কোনো উদ্যোক্তা গড়ে ওঠেনি। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে নিজ উদ্যোগে তিন শতাধিক কৃষক ও তরুণ বর্ষা মৌসুমে অস্থায়ী খামার করে হাঁস পালন করছেন।

জেলার লোহাগড়া উপজেলার শরুসুনা গ্রামের খামারি মো. তুহিন শেখ। পাঁচ বছর আগে তিনি ১৫০ হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেন। ওই বছর তার লাভ হয় লক্ষাধিক টাকা। প্রতি বছর তার খামার বড় করছেন। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা চার শতাধিক। এ বছর তিনি অন্তত ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: