শিরোনাম

South east bank ad

জ্বালানি সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোই রফতানি প্রসারে বড় বাধা

 প্রকাশ: ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

জ্বালানি সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোই রফতানি প্রসারে বড় বাধা

দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন রফতানিকারকের মতে, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং দুর্বল অবকাঠামোই এ মুহূর্তে দেশের রফতানি খাতের প্রসারে সবচেয়ে বড় বাধা। এসব চ্যালেঞ্জের সমাধান করা গেলে রফতানি বাড়বে।

রাজধানীর একটি হোটেলে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিন রফতানিকারক এমন অভিমত দেন। তারা হলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ এবং উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান। এ সময় দেশের রফতানি খাতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে দশমবারের মতো চারটি ক্যাটাগরিতে ‘এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’ শীর্ষক সম্মাননা দেয়ার ঘোষণা দেয় বহুজাতিক ব্যাংকটি।

অনুষ্ঠানের থিমেটিক সেশনে অংশ নিয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা অনেক সময় খুব বেশি বিনয়ী বা গুটিয়ে থাকি, যার ফলে আমাদের পণ্যগুলো বিশ্ববাজারে যথাযথভাবে প্রচার ও পরিচিতি পায় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের অবকাঠামো মাঝে মাঝে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হলো মানুষ। আমাদের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী, মেধা সম্পন্ন এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা মনোভাবাপন্ন। ব্যবসা করার জন্য মানবসম্পদই সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষ যদি ইতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করে, তবে বাংলাদেশে কাজের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

এ মুহূর্তে জ্বালানি সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোই রফতানি প্রসারে সবচেয়ে বড় বাধা বলে দাবি করেন উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ। তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে যেকোনো খাতের রফতানি আদেশ পাওয়া কোনো সমস্যাই হবে না।’

আসিফ আশরাফ আরো বলেন, ‘নিজস্ব তুলা বা পলিমারের মতো মৌলিক কাঁচামাল না থাকা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছি। গত ৩০-৪০ বছরে আমরা উদ্যোক্তাদের মনোভাব, কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিক এবং সহায়ক সেবার ওপর ভর করে এ বিশ্বমানের ইকোসিস্টেম তৈরি করেছি।’ প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণদের প্রশিক্ষিত করা এবং তৈরি পণ্যের মান উন্নত করাই এখন বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং তারা যথেষ্ট মেধাবীও। তাদেরকে সঠিকভাবে দক্ষ করে কাজে লাগানো গেলে দেশেই সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আজ থেকে ২০-৩০ বছর আগেই সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাংলাদেশে আসা উচিত ছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অর্জন, বিশেষ করে হাই-টেক বা উচ্চ প্রযুক্তির শিল্প নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে। কারণ আন্তর্জাতিক গ্রাহকরা প্রায়ই ডেটা সিকিউরিটি এবং আমাদের দুর্বল ইন্টারনেট অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা এখনো একটি বড় সমস্যা। কারণ সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনের কাজে মাত্র ১ মিলি-সেকেন্ডের জন্য বিদ্যুৎবিভ্রাট হলে টানা কয়েকদিন ধরে চলা সার্ভার প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করে দেয় এবং সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয়।

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: