পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি
দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন সামান্য বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫৪ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ১০০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৩ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৯ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ২৫ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ২০৪টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৫৭৯ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫৭৫ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক ৬৩ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে সাধারণ বীমা খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা জীবন বীমা খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সাতটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ২১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ব্যাংক খাতে। এছাড়া জীবন বীমা খাতে ৩ দশমিক ২৭ ও করপোরেট বন্ড খাতে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দশমিক ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে।
এছাড়া বস্ত্র খাতে ২ দশমিক ৫১ ও প্রকৌশল খাতে দশমিক ৮৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৪৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ২৬১ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৯৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৮৩০ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৪৪ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৩টির, কমেছে ১২৯টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির।


