সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা নিয়ে মুখোমুখি বস্ত্র ও পোশাক খাতের সংগঠন
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাতসংক্রান্ত এক সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে বিটিএমএর প্রতিনিধিরা বিষয়টি উত্থাপন করেন। তবে বিটিএমএ সূত্রের দাবি, বিষয়টি সভার আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দেশীয় স্পিনিং শিল্পের সুরক্ষায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা বহাল রাখতে চায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বিপরীতে আগের বন্ড সুবিধা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। বিটিএমএর যুক্তি, দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর আশঙ্কা, এতে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এনবিআরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছে সংগঠন দুটি। আজ এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের কথা রয়েছে।
রফতানিমুখী শিল্পে আমদানি করা কাঁচামালের আগাম শুল্ক-কর পরিশোধের চাপ কমিয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থা চালু করা হয়। তৈরি পোশাক শিল্প বিকাশের সঙ্গে দেশে এর পরিধিও বাড়ে। সরকারি কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইনের ৮৪ থেকে ১১৯ ধারাসহ বিভিন্ন বিধি ও আদেশের আওতায় এ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। বিশেষ বন্ডেড ওয়্যারহাউজের আওতায় শতভাগ রফতানিমুখী পোশাক কারখানা শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই আমদানি করা কাঁচামাল ব্যবহারের সুযোগ পায়।
বর্তমান বিরোধের সূত্রপাত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে এ সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে। সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে সংশ্লিষ্ট সুতা আগের মতো সরাসরি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা যাবে না; সমপরিমাণ শুল্ক-করের বিপরীতে ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে আমদানি করতে হবে। ২০২৫ সাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাতসংক্রান্ত এক সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে বিটিএমএর প্রতিনিধিরা বিষয়টি উত্থাপন করেন। তবে বিটিএমএ সূত্রের দাবি, বিষয়টি সভার আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে সভার কার্যবিবরণীর ভিত্তিতে ৭ সেপ্টেম্বর এনবিআর বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার ও ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির আদেশ জারি করে। ১৪ অক্টোবর একই ধরনের আরেকটি আদেশ জারি করা হয়।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক খাতের একাধিক বড় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জানান, সিদ্ধান্তটির প্রভাব শুধু সুতা সংগ্রহের ব্যয়ে সীমাবদ্ধ নয়; আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত কাঁচামাল ব্যবহার, উৎপাদন পরিকল্পনা, সরবরাহের সময়সীমা ও রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ সীমিত হলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে।
অনন্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশীয় স্পিনিং শিল্পের একটি অংশ কয়েক দশক ধরে মূলত সাধারণ ধরনের সুতা উৎপাদন করছে; আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারেনি।’ তার মতে, ভারতীয় সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে দেশীয় স্পিনিং শিল্প সুরক্ষা চাইছে। তবে এর দায় পুরো রফতানি শিল্পের ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সুরক্ষা ও বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়ার পর দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো অন্য পোশাক উৎপাদনকারী দেশে সরাসরি কতটা সুতা রফতানি করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শরীফ জহীর।


