আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম চড়া
বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আকারে ছোট এসব সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়। আলুর দাম আগের মতোই কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে, কেজি ৩০ টাকা।
রাজধানীর পাড়া-মহল্লার বাজার থেকে সড়কের পাশের ভ্যান—সবখানেই মিলছে আগাম শীতকালীন সবজি। তবে অধিকাংশই কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার বেশি দামে। অন্যদিকে টানা ছুটিতে ঢাকার বাইরে মানুষের যাতায়াত বাড়ায় চাহিদা কমেছে মুরগির। ফলে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে এর দাম। তবে মাছ ও ডিমের বাজার এখনো চড়া। পাশাপাশি বেড়েছে আদা-রসুনের দামও। কারওয়ান বাজার, ভাটারা ও নতুন বাজার ঘুরে গতকাল এমন চিত্র দেখা গেছে।
AKIJ Ceramics Advertisement
বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১১০ টাকায়। করলা, কাঁকরোল, বরবটি ও শসার দাম ৮০-১০০ টাকা। টমেটো ১০০-১২০ ও শিম ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে গতকাল। এছাড়া প্রতি কেজি পটোল ও ঢেঁড়স ৬০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০-৭০, ঝিঙা ৭০-৮০, মুলা ৫০-৬০, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ ও কচুরমুখী ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৬০-৭০ টাকা। মান ও বাজারভেদে কাঁচামরিচের দাম ১০০-১৬০ টাকা কেজি।
বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আকারে ছোট এসব সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়। আলুর দাম আগের মতোই কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে, কেজি ৩০ টাকা।
কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম প্রতিদিন, এমনকি সকাল-বিকালেও পরিবর্তন হয় বলে জানান কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. শাহজাহান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি আসছে। মৌসুমের শুরুতে এসবের দাম কিছুটা বেশি থাকে। এ সময়ে কৃষকরাও ফসলের ভালো দাম পান। তবে শীতকালীন সবজির পুরোদমে মৌসুম শুরু হলে দাম কমে আসবে।’
এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ছিল ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩৩০-৩৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৪০-৩৫০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা মানিক জানান, মুরগির দাম মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। এ সপ্তাহে চাহিদা কিছুটা কম। টানা ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।
মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। গতকাল প্রতি কেজি রুই মাছ (এক থেকে দেড় কেজি ওজনের) বিক্রি হয়েছে ৩৩০-৩৬০ টাকায়। এছাড়া পাবদা ৩৫০-৩৮০, ছোট কাঁচকি ৩৮০-৪০০, টেংরা ৩০০-৩৫০, চাষের কৈ ২৫০-২৮০, তেলাপিয়া ২২০-২৪০, চাষের পাঙাশ ২০০-২৩০ ও সরপুঁটি ২২০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে তার থেকে ১০-২০ টাকা কমে মিলেছে।
ডিমের দামেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা। ডজনপ্রতি দাম পড়ছে ১৫০ টাকা।
রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আদা ও রসুনের দাম। দেশী ও আমদানি দুই ধরনের রসুনের দামই কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। একই পরিমাণ বেড়েছে আমদানি করা আদার দামও।


