শিরোনাম

South east bank ad

ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে

 প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   ব্যাংক

ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতেও বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এ ব্যাংকগুলোর মোট তারল্যের পরিমাণ ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা।

কোনো উদ্যোগেই বাড়ছে না দেশের বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের গতি। বিপরীতে ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে আমানতের প্রবাহ। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় ঠেকেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগস্ট শেষে ব্যাংকগুলোর মোট তারল্যে স্থিতি ছিল ৭ লাখ ৮১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বিধিবদ্ধ ন্যূনতম তারল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। সে হিসাবে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকাই ছিল উদ্বৃত্ত তারল্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের ‘মেজর ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
AKIJ Board Advertisement

রেকর্ড এ উদ্বৃত্ত তারল্য কাজে লাগানোর জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না অনেক ব্যাংক। এজন্য এখন গ্রাহকদের ঋণ না দিয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে খাটানোর চেষ্টা করেছে বেশির ভাগ ব্যাংক। আর একেবারেই অলস পড়ে আছে এমন তারল্যের পরিমাণও ক্রমাগত বাড়ছে বলে ব্যাংক নির্বাহীরা জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগস্ট শেষে প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাতে সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল। এ শ্রেণীর ব্যাংকগুলোর মোট তারল্য সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ন্যূনতম তারল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এ ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ২ লাখ ৭১ হাজার ৬৯১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারি খাতের সব ব্যাংকের হাতেই যে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে পরিস্থিতি তা নয়। বরং প্রচলিত ধারার অন্তত এক ডজন ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এ ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আস্থার সংকটে রয়েছে। এ কারণে উচ্চ সুদ দিয়েও আমানতকারীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। বিপরীতে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ও শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আমানত বা তারল্য উপচে পড়ছে। কম সুদ দেয়ার পরও গ্রাহকরা এ ব্যাংকগুলোতে আমানত রাখতে ভিড় করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিপুল উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে প্রচলিত ধারার এমন ব্যাংকগুলোর একটি পূবালী ব্যাংক পিএলসি। প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি এ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা পূবালী ব্যাংকের আমানত ১ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করার একটি ক্যাম্পেইন চালিয়েছিলাম। কাম্পেইন শেষে দেখা গেছে, আমানত ১ লাখ ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ অল্প সময়েই প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। চলতি বছর এরই মধ্যে ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা বছর শেষে ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে বলে আশা করছি।’

পূবালী ব্যাংকের শীর্ষ এ নির্বাহী বলেন, ‘বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকটসহ অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। এ কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার এখনো ৪ শতাংশের ঘরে আটকে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, এসএমই, কৃষিসহ রিটেইল ব্যাংকিংয়ের বিস্তৃতি বাড়াতে। এক্ষেত্রে সাড়াও বেশ ভালো। আশা করছি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ ইউরোপের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে দেশে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়বে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতেও বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এ ব্যাংকগুলোর মোট তারল্যের পরিমাণ ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ৯০ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকার ন্যূনতম তারল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। সে হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতেও উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার তারল্য। তবে উদ্বৃত্ত এ তারল্যের সিংহভাগই রয়েছে সোনালী ব্যাংকের কাছে। জনতা ও বেসিক ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত দুর্বল ব্যাংকগুলোও তারল্য সংকটে ভুগছে।

এছাড়া ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর মোট তারল্য ছিল ৩৭ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় তারল্য ছিল ৩৫ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। বিদেশী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে মোট তারল্য ছিল ৪২ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা, যেখানে ন্যূনতম প্রয়োজন ছিল ১৬ হাজার ২ কোটি টাকা। আর সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মোট তারল্য ছিল ২ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় তারল্য ছিল ২ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। তবে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত বা এসএলআর সংরক্ষণ করতে হয় না।

ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের চিত্রের পাশাপাশি ঋণ ও আমানতের অনুপাতেও (এডিআর) নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের অগ্রিম-আমানত অনুপাত ছিল ৮০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে ৮১ দশমিক ৩২ শতাংশে উঠলেও এরপর থেকে কমতে থাকে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এ অনুপাত নেমে আসে ৭৮ দশমিক ২৮ শতাংশে। গত ডিসেম্বর শেষে তা আরো কমে ৭৭ দশমিক ৭২ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি বছরের মার্

BBS cable ad

ব্যাংক এর আরও খবর: