শিরোনাম

South east bank ad

উৎপাদন বন্ধ ও ব্যবসায়িক ঝুঁকির মুখে এক-পঞ্চমাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানি

 প্রকাশ: ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   শেয়ার বাজার

উৎপাদন বন্ধ ও ব্যবসায়িক ঝুঁকির মুখে এক-পঞ্চমাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানি

দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০।

এর মধ্যে ৭৪টি কোম্পানিই ব্যবসায়িকভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা মোট তালিকাভুক্ত কোম্পানির এক-পঞ্চমাংশ। মূলত আর্থিক দুর্বলতা, ঋণের বোঝা এবং উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে কোম্পানিগুলো অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। নিরীক্ষকের মতামত এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শনের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোর এ চিত্র উঠে এসেছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে নিরীক্ষকের মতামত ও নিজস্ব পরিদর্শনের ভিত্তিতে উৎপাদন বন্ধ থাকার পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবে ঝুঁকির মুখে থাকা কোম্পানিগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

তথ্যানুসারে, নিরীক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকিতে থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৫৮টি। অন্যদিকে উৎপাদন বা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ৩৫টি কোম্পানির। উৎপাদন বন্ধ থাকা এ ৩৫ কোম্পানির মধ্যে ১৯টিই আবার নিরীক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকিতে থাকা ৫৮ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ এসব কোম্পানির ক্ষেত্রে একদিকে উৎপাদন বন্ধ, অন্যদিকে নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণেও ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে।

দুই তালিকা সমন্বয় করে দেখা যায়, এতে মোট ৭৪টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি কোম্পানি উভয় তালিকায় রয়েছে। ৩৯টি কোম্পানি শুধু নিরীক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকিতে থাকা তালিকায় এবং ১৬টি কোম্পানি শুধু উৎপাদন বন্ধ থাকা তালিকায় রয়েছে।

উৎপাদন বন্ধ কোম্পানির তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বস্ত্র, স্পিনিং ও পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ইস্পাত, খাদ্য, বিদ্যুৎ, প্লাস্টিক, প্রকৌশল, কাচ, সিরামিক, সিমেন্ট ও চিনি খাতের কোম্পানিও রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, এএফসি এগ্রো বায়োটেক, অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, ফ্যামিলিটেক্স, জিবিবি পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, হামিদ ফেব্রিকস, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রো স্পিনিং, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, নিউ লাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার, প্যাসিফিক ডেনিমস, প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস, রহিমা ফুড করপোরেশন, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, ইয়াকিন পলিমার ও জাহিন স্পিনিং।

উৎপাদন বন্ধ থাকা এসব কোম্পানির মধ্যে কোনোটি দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন ২০০২ সাল থেকে বন্ধ। বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডসের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ২০১৬ সাল থেকে। এছাড়া তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িংয়ের উৎপাদন বন্ধের তারিখ ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি এবং মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইংয়ের ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে এমন কোম্পানিও রয়েছে। অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসের ক্ষেত্রে ২৫ জুন ২০২৬, এএফসি এগ্রো বায়োটেকের ক্ষেত্রে ৯ জুলাই ২০২৬ এবং এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলসের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এ বছরের ১ আগস্ট থেকে।

উৎপাদন বন্ধ থাকা ৩৫ কোম্পানির মধ্যে ১৯টি কোম্পানি নিরীক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকিতে থাকা ৫৮ কোম্পানির তালিকাতেও রয়েছে। এ কোম্পানি হলো আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, জিবিবি পাওয়ার, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রো স্পিনিং, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং, প্যাসিফিক ডেনিমস, প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি ও জাহিন স্পিনিং।

অর্থাৎ উৎপাদন বন্ধ থাকা ৩৫ কোম্পানির ১৯টি বা প্রায় ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ একই সঙ্গে নিরীক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকিতে থাকা কোম্পানির তালিকায় রয়েছে। আবার নিরীক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকিতে থাকা ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ১৯টি বা প্রায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশের উৎপাদনও বন্ধ।

নিরীক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকিতে থাকা ৫৮ কোম্পানির তালিকায় শিল্প, বস্ত্র, ওষুধ, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা খাতের কোম্পানি রয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনলিমা ইয়ার্ন ডায়িং, আরামিট সিমেন্ট, এটলাস বাংলাদেশ, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, দ্য ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, জিবিবি পাওয়ার, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ), ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইনটেক, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জুট স্পিনার্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা সিমেন্ট মিলস, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রো স্পিনিং, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং, ন্যাশনাল টি কোম্পানি, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্যাসিফিক ডেনিমস, ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস, রিং শাইন টেক্সটাইলস, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস, সাফকো স্পিনিং মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং মিলস, তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং, ইউনিয়ন ব্যাংক, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, জাহিন স্পিনিং ও জিল বাংলা সুগার মিলস।

BBS cable ad

শেয়ার বাজার এর আরও খবর: