শিরোনাম

South east bank ad

বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান ভারতকে

 প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান ভারতকে

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগের বিষয়েও কথা হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে ভারতকে এ দেশ থেকে আরো বেশি পণ্য আমদানির আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্প্রসারণ, আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট এবং এক্ষেত্রে দেশটির অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে গভর্নরের বক্তব্যে এসব বিষয় উঠে আসে। এ সময় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগের বিষয়েও কথা হয়। এ সময় বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে ভারতের আমদানি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন গভর্নর।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের আকার বিগত পাঁচ দশকে ক্রমেই বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। বাংলাদেশের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস দেশ। তবে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের বড় অংশই ভারত থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরো সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন মো. মোস্তাকুর রহমান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৩৬ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫২ হাজার ১২১ কোটি টাকা (ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা হিসাবে)। অবশ্য এর আগের অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরো বেশি ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট বাণিজ্য হয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ কোটি ৩ লাখ ডলারের।

অন্যদিকে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানির অর্থমূল্য ছিল ১ হাজার ৫৮ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানির অর্থমূল্য ছিল ১৭৮ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ আরো সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর জানান, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে একাধিক বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগকৃত অর্থ ও অর্জিত মুনাফা তুলনামূলক সহজেই নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবেন।

বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্স) গৌরব কুমার আগারওয়াল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নরের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও মো. সরোয়ার হোসেন।

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: