শিরোনাম

South east bank ad

চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে

 প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে

চামড়া ও পাদুকা শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়াতে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য সচিব বলেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। এতে ট্যানারি মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা প্রতিফলিত করা হবে।

আতাউর রহমান খান বলেন, চামড়া শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দেশে রয়েছে। এ খাতে দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতাও বেড়েছে। তাই দেশে চামড়াজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

রপ্তানি বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সরকারের সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে।

এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের একটি কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব।

চামড়া শিল্পে গবেষণা জোরদারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক ও উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ আরো কার্যকর করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৈরি পোশাকের পর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে চামড়া শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। নতুন বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরো শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে এ খাতে।

বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে। চামড়ার তৈরি বিভিন্ন শৌখিন পণ্যেরও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। দেশের অনেক হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করছে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম।

দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর একটি বড় অংশ রপ্তানি করা হয়। বাকি চামড়া দেশের চামড়াজাত পণ্যশিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের চামড়া প্রধানত ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ানে রপ্তানি হয়।

দেশের বাজারেও পাদুকার চাহিদা বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাদুকা তৈরির ক্রয়াদেশ পাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। ফলে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর আইসিসিবিতে প্রদর্শনীটি চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ।

এ ছাড়া ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক ও প্রযুক্তিবিদরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: