শিরোনাম

South east bank ad

সুদহার ৩.৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখল ফেড

 প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

সুদহার ৩.৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখল ফেড

ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও চলতি বছর আরেক দফা সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চপর্যায়ে থাকায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। স্থানীয় সময় বুধবার দুদিনের নীতিনির্ধারণী বৈঠক শেষে সুদহার প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশে রাখার ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। তবে পরবর্তী সময়ে সুদহার বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ফেড। খবর রয়টার্স।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে ফেড জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনতে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী মুদ্রানীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও চলতি বছর আরেক দফা সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের পূর্বাভাসে এ ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। আর্থিক বাজারের লেনদেনেও ডিসেম্বরে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে। তবে সর্বশেষ বিবৃতিতে ফেড এ বিষয়ে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দেয়া দায়িত্ব অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফেড। এ লক্ষ্য অর্জনে সুদহার বাড়িয়ে ঋণ নেয়া ও ব্যয়ের প্রবণতা কমানোর চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কমে ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ প্রশমিত হয়। তবে সুদহার বাড়ালে ব্যবসা ও ভোক্তাদের ঋণ নেয়ার খরচ বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগ ও ভোগব্যয়েও প্রভাব পড়ে।

এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পোশাকের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা রাজনৈতিক আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের সামনে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো নির্মাণে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হলে শুধু সুদহার বাড়িয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। ফলে একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে ফেডকে। আপাতত সুদহার অপরিবর্তিত রেখে আরো তথ্যের অপেক্ষায় থাকলেও ভবিষ্যতে নীতি সুদহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির ওপর।

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: