হালকা প্রকৌশল খাতে রফতানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা দাবি
রফতানি বাজারে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল বা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহার হ্রাস, রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নগদ প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি (বাইশিমাস)।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বাইশিমাস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রশিদ ও সহসভাপতি রাজু আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো ২০২৬’ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বক্তারা জানান, বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ও কৌশলগত শিল্প খাত লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং। জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখছে এ খাতটি। কৃষি, টেক্সটাইল, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, অটোমোবাইল ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সরবরাহ করছে খাতটি। দেশের প্রায় ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ চাহিদার অর্ধেকই এ শিল্পের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। বর্তমানে ৩ হাজার ৮০০ ধরনের যন্ত্রপাতি, প্রতিস্থাপন যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম, ডাই ও ছাঁচসহ বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য দেশেই উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতি আমদানিনির্ভর হওয়ায় দেশের হালকা প্রকৌশল সম্প্রসারিত হতে পারছে না।
সংবাদ সম্মেলনে বাইশিমাস সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি হালকা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে তিন লক্ষাধিক কর্মী কাজ করছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে চলছে দেশীয় এ খাত।’
তিনি আরো বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ডিজাইন, আন্তর্জাতিক মান ও পেটেন্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া এ খাতের টেকসই উন্নয়ন ও রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত। এজন্য কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, নারী ও যুব শ্রমিকের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার।’
হালকা প্রকৌশল খাতে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো কিছু প্রস্তাব ও নীতিগত পরামর্শ দিয়েছে বাইশিমাস। এগুলো হলো কারখানাগুলোকে কমপ্লায়েন্স সক্ষম করতে শিল্পনগরীতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন গড়ে তোলা; উচ্চমূল্যের ও রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনে সরকারি সহায়তা, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, দেশে তৈরি যন্ত্রাংশ ও ডিজাইনের স্বত্ব সংরক্ষণে সহজ ও কার্যকর পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপোর উদ্বোধন করা হবে। দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে প্রতিযোগিতামূলক ও রফতানিমুখী করতে আয়োজিত এ প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রদর্শনীতে নির্মাণ ও প্যাকেজিং মেশিনারি, কৃষি যন্ত্র, বৈদ্যুতিক পণ্য, জুট ও টেক্সটাইল যন্ত্রাংশ, অটোমোবাইল কম্পোনেন্টস, ডাই-মোল্ডসহ ৫০টির বেশি বুথে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করবে। এছাড়া দুটি সেমিনারে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ও গবেষণা-উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে দেশীয় শিল্প শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরি ও বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত আন্তর্জাতিক বাজারে দৃশ্যমানতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।


