পরিকল্পিত বসুন্ধরাকে বিশৃঙ্খল নগরে পরিণত করার শঙ্কা
রাজধানী ঢাকার কোলাহল, বিশৃঙ্খলা, মাদক-সন্ত্রাসের মতো চিরায়ত অপরাধীচক্রের বলয় ভেদ করে গড়ে ওঠা নিরাপদ, অভিজাত আদর্শ আবাসন যেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। এর শিল্পিত কাঠামোর অবয়বকে মিথের মতো মনে হবে! নৈসর্গিক দৃশ্যের সঙ্গে অনেকটা শিল্পীর পরিকল্পিত নান্দনিক তুলিতে আঁকা ছবি যেন সবকিছু! অথচ এটি কোনো জাদুমন্ত্রে গড়া নয়, বরং এখানকার দক্ষ, কঠোর ও আপসহীন ব্যবস্থাপনার কাঙ্ক্ষিত ফসলই আজকের বসুন্ধরা আবাসিকের শান্তির নীড়। রাজধানীর অন্য যেকোনো আবাসিক এলাকার নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সমান্তরালে যেন একচিলতে প্রশান্তির আঙিনা। অথচ বছরের পর বছর ধরে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই সুন্দর গোছানো বসুন্ধরাকে এখন নিয়ন্ত্রণের নানা তৎপরতা চলছে।
সবকিছু যখন ছবির মতো করে সাজানো হয়েছে, তখন একে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
অথচ রাজধানী ঢাকার দুই সিটির আওতায় যত আবাসিক এলাকা রয়েছে, সেগুলোর কোনোটাই পরিপূর্ণভাবে বসবাস উপযোগী করে রাখতে পারেনি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। নাগরিকদের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারেনি। সড়ক বাতি, ফুটপাত কিংবা ড্রেনেজ ব্যবস্থা—কোনো সেবাই সন্তোষজনক নয়।
কিন্তু নাগরিকদের কাছ থেকে মাসের পর মাস সেবামাশুল ঠিকই নেওয়া হচ্ছে। বসুন্ধরার কাছাকাছি বেশ কিছু আবাসিক এলাকা, বিশেষ করে বাড্ডা, ভাটারা, খিলক্ষেত, কালাচাঁদপুর, জগন্নাথপুর কিংবা নিকুঞ্জ—কোনো এলাকাই বসুন্ধরার মতো পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় চলছে না। ওই সব এলাকায় প্রতিনিয়ত খুন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানি নিত্যদিনের ঘটনা। এসব এলাকার পায়ে পায়ে অপরাধ।
সেখানকার দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার, ব্যানার আর স্লোগানসংবলিত নানা সাইনবোর্ড-ফেস্টুন। সৌন্দর্যের বালাই নেই! রাজধানীর এক মোহাম্মদপুর এলাকার তো বলতে গেলে কোনো মা-বাপই যেন নেই! প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী আর কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। সেবা না পেয়েও ওই সব এলাকার নাগরিকরা কিন্তু ঠিকই সিটি করপোরেশনকে সেবামাশুল দিয়ে যাচ্ছেন।
রাজধানীর এত সব আবাসিক এলাকার নাগরিকসেবা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রায় তলানিতে। অথচ সিটি করপোরেশন এখন বসুন্ধরার মতো শান্তিপূর্ণ, সাজানো-গোছানো একটি আবাসিক এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিশৃঙ্খল, অনিরাপদ ও নানা অপরাধের আরেকটি এভিনিউ বানানোর চেষ্টা করছে বলে বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহ গড়ে উঠছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা কেন মানুষ পছন্দ করে? বসবাসের জন্য কেন সবাই এখানে ছুটে আসে? আমার কাছে মনে হয়, এটি রাজধানীর অন্য সব এলাকা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি সাধারণ কোনো আবাসিক এলাকা নয়, বরং এটি রাজধানীর ভেতরে আভিজাত্য আর আধুনিক জীবনাচারের একচিলতে অনিন্দ্য আভাসস্থল। সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি আর যেকোনো ধরনের অন্যায়-অবিচারমুক্ত সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ স্থান।
অথচ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা কিভাবে এত পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠল? এর নেপথ্যের গল্পই বা কী? অপরিকল্পিত ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণের বাস্তবতায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আজ এক ব্যতিক্রমী নগর-দর্শনের উত্কৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যেখানে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় অবকাঠামোগত বিশৃঙ্খলা, যানজট, জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা নিত্যদিনের বাস্তবতা; সেখানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের অনন্য কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে গড়ে উঠছে। ১৯৮৭ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সুদূরপ্রসারী, সৃষ্টিশীল উদ্যোগে যে পরিকল্পিত নগরায়ণের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষের এই ঢাকা মেগাসিটির ভেতরে শান্ত, নিরাপদ ও আধুনিক আবাসন মডেল হিসেবে বাস্তব রূপ নিয়েছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অন্যতম প্রধান শক্তি হলো এর কঠোর নির্মাণ নীতিমালা এবং রাজউকের বিধি-বিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন। ঢাকার বহু এলাকায় যেখানে একটি ভবন আরেকটির গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে, আলো-বাতাসের চলাচল নেই, অনেকটা অন্ধকার প্রকোষ্ঠের মতো; সেখানে বসুন্ধরায় ভবনের চারপাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ খোলা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। ফলে প্রতিটি বাসায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ থাকে, যা শুধু বসবাসকে আরামদায়কই করে না, বরং স্বাস্থ্যকর নগরজীবন নিশ্চিতও করে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা একটি আবাসিক এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; বসুন্ধরা সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই গড়ে উঠেছে। ফলে যে কেউ বসুন্ধরায় এসে কান পাতলেই এখানে নাম না জানা কত পাখির কিচিরমিচির শুনতে পাবে। সবুজ নিসর্গের প্রশান্তিময় ছোয়া পাবে। এখানকার প্রতিটি ব্লকে সন্ধ্যার পর থেকেই স্নিগ্ধ এক আবহ তৈরি হয়। চারপাশে ঝিঁঝি পোকার ডাক যে কাউকেই মোহিত করবে। বিরক্তিকর নাগরিকতার বিষাক্ত বাস্তবতার আড়ালে এ যেন মন ভরে শ্বাস নেওয়ার একান্ত নিজের জায়গা!
অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এলাকাটি রাজধানীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত। প্রচলিত পিচঢালা রাস্তার পরিবর্তে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই কংক্রিট ব্লক প্রযুক্তি, যা বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সহায়ক এবং জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ঢাকার বহু এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও বসুন্ধরার পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সেই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি প্রশস্ত সড়ক, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, ফুটপাত এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নাগরিক জীবনকে আরো আরামদায়ক করে তুলেছে।
নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিচারে বসুন্ধরা আজ একটি প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ নগরে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্যও পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও স্থান বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর ফলে বাসিন্দারা তুলনামূলক নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত পরিবেশে জীবন যাপন করতে পারেন। রাজধানীর অনেক এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব, দখলদারি, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তি কিংবা অবৈধ ব্যবসা নিয়ে যে অস্থিরতা, বসুন্ধরার নিয়ন্ত্রিত ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে তার উপস্থিতি বলতে গেলে নেই-ই।
এলাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সামাজিক ও পরিবেশগত শৃঙ্খলা। এখানে হকার, ভাসমান বস্তি কিংবা অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট, টি-স্টল নেই বললেই চলে। ফলে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও তুলনামূলক নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য প্রতি ব্লকে একাধিক সুপরিকল্পিত মসজিদ, ভিন্নমতাবলম্বীদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থনালয় এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমানভাবে বজায় রাখছে। অধিবাসীদের জন্য কমিউনিটি পার্ক, খেলার মাঠ বসবাসের পূর্ণতা দিয়েছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতা একটি শক্তিশালী কমিউনিটির পরিচয় দিয়েছে। যখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, তখন এখানকার বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের এলাকা নিরাপদ রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার প্রকৃত শক্তি কেবল অবকাঠামোতে নয়, বরং তার বাসিন্দাদের সামাজিক সংহতি ও দায়িত্ববোধও এখানে অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার বাসিন্দাদের মতে, সিটি করপোরেশনের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, উচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিজস্ব ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাধ্যমে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা অধিক ফলপ্রসূ ও সম্মানের। কারণ একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে নিয়মের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য। একজন সাধারণ মানুষ, যিনি সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করে নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাস গড়ে তুলতে চান, তাঁর কাছে এই শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা ও পুঁজি।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি। এখানে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিকমানের স্কুল ও কলেজ। পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, যা বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ ও নিরাপদ করে তুলেছে।
বিনোদন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রেও বসুন্ধরা অনন্য। এখানে রয়েছে আধুনিক শপিং মল, আন্তর্জাতিকমানের রেস্টুরেন্ট, কফি শপ এবং লাইফস্টাইল আউটলেট, যা শহুরে জীবনের প্রয়োজন ও রুচির সৌন্দর্যকে উপস্থাপন করে। এ ছাড়া দেশসেরা স্পোর্টস সিটি, গল্ফ কোর্স, বিশ্বব্র্যান্ডের জিম ফ্রেঞ্চাইজি এবং উন্মুক্ত সবুজ এলাকা নাগরিকদের জন্য শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের এক ব্যতিক্রমী ভারসাম্য তৈরি করেছে।
বসুন্ধরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হলো এর পরিকল্পিত ও বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। হাজারো নিরাপত্তারক্ষীর নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, নিয়মিত টহল, হাজার হাজার সিসি ক্যামেরার চোখ এবং সার্বক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনিক নজরদারি সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। এ কারণে বাসিন্দারা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনকে তুলনামূলক নিশ্চিন্ত, ভাবনাহীন ও সহজ ভাবছেন।
এখানকার বাসিন্দাদের অনেকের সঙ্গে বিভিন্ন সময় আমার কথা হয়েছে। তাঁরা এর বিদ্যমান স্বকীয়তার টেকসই রূপ চান। তাঁরা মনে করেন, এটিকে নিরাপদ ও অপরাধপ্রবণতার বলয়মুক্ত রাখতে হলে একে ডিএনসিসির নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখতে হবে। কারণ ডিএনসিসি এখনো ওই দক্ষতা ও আস্থা তৈরি করতে পারেনি, যা এর সার্বিক নিরাপত্তা, আভিজাত্য বজায় রাখতে পারবে। কারণ ডিএনসিসি তার আওতাধীন বিদ্যমান এলাকার সব নাগরিকসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে—এটা সবাই জানে। বসুন্ধরাকে সিটির আওতায় নেওয়া হলে এখানের মানুষ আরো অনিরাপদ ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ একটি নাগরিকতায় প্রবেশ করবে। হাতে ধরে একটি গোছানো আবাসিক এলাকাকে বিনষ্ট করার বিষয়টি এখানের অধিবাসীরা কোনোভাবেই মানবেন না।
বসুন্ধরার অধিবাসীরা আরো জানান, সত্যিকার অর্থে তাঁরা শুধু একটি ফ্ল্যাট বা প্লট কেনেন না; বরং তাঁরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় আস্থা রাখেন, আত্মমর্যাদার সুরক্ষা দেন। এ কারণেই রাজধানীর অনেক এলাকার তুলনায় তুলনামূলক বেশি মূল্যে হলেও মানুষ বসুন্ধরায় বসবাসের স্বপ্ন দেখেন। পরিকল্পিত নগরায়ণের অনন্য এ আবাসিক এলাকাটি বহু বছরের প্রচেষ্টায় যেভাবে গড়ে উঠেছে, তা এক লকমায় বিনষ্ট হলে, এর গৌরব ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন হবে। তাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নান্দনিকতা, পরিবেশগত ভারসাম্য, আধুনিকতা ও সুশৃঙ্খল চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখা কেবল এর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়, বরং এর স্বকীয় রূপ, আভিজাত্য ও মর্যাদার সুরক্ষা দেওয়া এখন প্রতিটি বাসিন্দার সম্মিলিত দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।


