ডেঙ্গু প্রতিরোধে বসুন্ধরা এক্সট্রিম কেয়ারের ‘মশার বিরুদ্ধে এক্সট্রিম অভিযান’
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশব্যাপী বিশেষ প্রচারণা কর্মসূচি শুরু করেছে বসুন্ধরা এক্সট্রিম কেয়ার। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেডকোয়ার্টারের সামনে ফগ মেশিন দিয়ে মশক নিধনে ধোঁয়া ও স্প্রে কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘মশার বিরুদ্ধে এক্সট্রিম অভিযান’।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান, চিফ সেলস অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার ইমরান বিন ফেরদৌস, হেড অব মার্কেটিং মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, হেড অব সেলস মোহাম্মদ আবদুল ওয়ারেস ও ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) শোয়াইব মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত এক বছরে দেশে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও কলেরা ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে মশক নিধন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বসুন্ধরা বিভিন্ন ধরনের মশকনাশক পণ্য তৈরি করেছে, যার মধ্যে ‘এক্সট্রিম স্প্রে’ অন্যতম।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুসরণ করে পণ্যটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে কার্যকারিতার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও কম থাকে। এ ছাড়া ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে এক মাসব্যাপী এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে মশা প্রতিরোধক সামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তারাও এ উদ্যোগে অংশ নিতে পারেন।
অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, বাজারে প্রচলিত অনেক মশকনাশক পণ্যে বিষাক্ত উপাদান থাকায় সেগুলোর ব্যবহার অবশ্যই পরিমিত ও সচেতনভাবে করতে হবে। অতিরিক্ত ধোঁয়াযুক্ত কয়েল বা অনুরূপ পণ্যের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে প্রায় ধোঁয়াবিহীন কয়েল ও পরিমিত মাত্রার ‘এক্সট্রিম মশার স্প্রে’ তৈরি করা হয়েছে।
এ সময় বক্তারা বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশারি ব্যবহার এবং মশা প্রতিরোধক সামগ্রী ব্যবহারের আহ্বান জানান।
পাশাপাশি মশা প্রতিরোধে বসুন্ধরা এক্সট্রিম অ্যারোসল ইনসেক্ট কিলার ও বসুন্ধরা এক্সট্রিম মশার কয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ প্রচারণা ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংক্রমণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


