শিরোনাম

South east bank ad

সংবাদপত্র শিল্পে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব নোয়াবের

 প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

সংবাদপত্র শিল্পে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব নোয়াবের

সংবাদপত্র শিল্পের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।

সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠনটি বলছে, কাঁচামাল বা নিউজপ্রিন্টের দাম বৃদ্ধি, বিজ্ঞাপন আয় হ্রাস এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ শিল্প বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে রয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে গতকাল আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে নোয়াব নেতারা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান। নোয়াব ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সঙ্গে এ বৈঠকের আয়োজন করে এনবিআর।

অনুষ্ঠানে আসন্ন বাজেট নিয়ে নোয়াবের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। সংবাদ সম্পাদক ও প্রকাশক আলতামাশ কবির এবং বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দুষ্প্রাপ্যতা ও আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় পত্রিকা প্রকাশ অব্যাহত রাখা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতেও পত্রিকাগুলো কর্মীদের মাসিক বেতন ব্যয় অপরিবর্তিত রেখেছে। সংবাদপত্রগুলো অতি কষ্টে এবং কেউ কেউ লোকসান দিয়েও এ বেতনের ব্যয় চালিয়ে নিচ্ছে। আরো বড় সংকট তৈরি করেছে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। যদিও পত্রিকাগুলোর অফিস ভাড়া, ব্যবস্থাপনা খরচ, পত্রিকা পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয়ও অপরিবর্তিত রয়েছে।’

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছর সংবাদপত্রগুলো নিগৃহীত ছিল, কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলাম। গত দেড়-দুই বছরেও যে ভালো ছিলাম, তা নয়। দুটি সংবাদপত্রের কার্যালয় জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের পত্রিকার কথা বলতে পারি, এক কপি বের করতে সব মিলিয়ে ২৮ টাকা খরচ হয়। আবার এর সঙ্গে পাঠক, বিজ্ঞাপন ও আয় কমছে। সব শিল্প যেমন সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা চায়, আমরাও চাই।’

অনুষ্ঠানে নোয়াবের পক্ষ থেকে আসন্ন বাজেটে সংবাদপত্র শিল্পের জন্য বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ শিল্পে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি তুলে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবাদপত্র শিল্পের প্রধান কাঁচামাল নিউজপ্রিন্টের ওপর বর্তমানে ৩ শতাংশ (শর্তসাপেক্ষে) আমদানি শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ১৫, অগ্রিম কর ৫ ও আগাম কর (এটি) সাড়ে ৭ শতাংশ হারে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এসব কর, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয়সহ নিউজপ্রিন্টের ল্যান্ডেড কস্ট দাঁড়ায় প্রায় ১৩০-১৩২ শতাংশ পর্যন্ত। নিউজপ্রিন্টের ক্রমবর্ধমান মূল্য ও উচ্চ আমদানিনির্ভরতার কারণে শিল্পটির টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর আরোপিত উৎসে কর ও কাঁচামাল আমদানিতে করহার হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে নোয়াবের প্রস্তাবে বলা হয়, ৫ শতাংশ করে এ দুই কর মিলিয়ে হয় ১০ শতাংশ। অথচ সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের মোট আয়ের ১০ শতাংশ লাভ থাকে না। আবার এ অগ্রিম আয়কর বছর শেষে আয়করের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারের কাছে প্রতিষ্ঠানের অগ্রিম কর পাওনা হিসেবে থেকে যাচ্ছে, যা বাস্তবে নগদ অর্থের সংকট তৈরি করে। তাই এ দুই করহার কমানো জরুরি।

নোয়াবের প্রস্তাবে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতির সুপারিশ করে বলা হয়, সংবাদপত্র শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো নিউজপ্রিন্ট, যা মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ। যদিও ভ্যাট আইন অনুযায়ী, সংবাদপত্র প্রকাশনা ও বিক্রয় কার্যক্রম ভ্যাটমুক্ত। বর্তমানে নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর ১৫ শতাংশের মতো ভ্যাট আরোপ করা হয়। এ ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেয়া প্রয়োজন।’

এছাড়া নোয়াবের প্রস্তাবে সংবাদপত্র শিল্পের জন্য করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং কর্মীর আয়কর থেকে প্রতিষ্ঠানের দায়মুক্তির দাবি জানানো হয়।

এ সময় সংবাদপত্র শিল্পে করপোরেট কর বাড়ানো হবে না বলে আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে আগামী বাজেটে অন্যান্য শুল্ক-কর নিয়েও যৌক্তিক পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের রিটার্ন জমার সময়সীমা প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের সারা বছর আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বছরব্যাপী এ সুযোগ দিলেও প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য প্রণোদনা বা রিবেট দেয়ার ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি আমরা আইন করে বাস্তবায়নের কথা চিন্তা করছি। প্রথম প্রান্তিকে যারা রিটার্ন জমা দেবেন, তারা ইনসেনটিভ বা রিবেট পাবেন। যারা পরের প্রান্তিকে দেবেন, তারা নিয়মিত হারে দেবেন। এর পরের প্রান্তিকে এ হার একটু বাড়বে। আর সর্বশেষ প্রান্তিকে তা আরেকটু বাড়বে।’

অনুষ্ঠানে মো. আবদুর রহমান খান আরো বলেন, ‘২০১৪ সাল বা তার আগে থেকেই দেশে করদাতার সংখ্যা ছিল খুব কম। করদাতার সংখ্যা বাড়াতে আমরা অনেক জায়গায় বলেছি, যদি ই-টিন না থাকে অথবা রিটার্ন জমা না দেয়া হলে বেশকিছু সেবা পাওয়া যাবে না। ব্যবসার ক্ষেত্রেও ভ্যাট আইনে একই কাজ করব।’

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: