শিরোনাম

South east bank ad

ভোলায় গ্যাসভিত্তিক ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব বিপিডিবির

 প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   মন্ত্রনালয়

ভোলায় গ্যাসভিত্তিক ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব বিপিডিবির

দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনতে এলএনজিতে (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রূপান্তর ব্যয়বহুল। এর পরিবর্তে ভোলায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা গেলে তাতে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। ভোলা থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়। বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, এ পরিমাণ গ্যাস পরিবহনে বছরে ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এভাবে ১০ বছর সেখানকার গ্যাস পরিবহন করা হলে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে এ বিপুল পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব বলে জানিয়েছে বিপিডিবি।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) ভোলার প্রস্তাবিত এলএনজির দাম নির্ধারণ-সংক্রান্ত এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে বিপিডিবির পক্ষ থেকে ভোলায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব তুলে ধরেন সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ পরিদপ্তর) সৈয়দ জুলফিকার আলী।

তিনি বলেন, ‘এক ঘনমিটার গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ইউনিটপ্রতি ৪-৫ টাকা ব্যয় হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে ঢাকায় আনতে প্রতি ইউনিটে খরচ হবে মাত্র ১ টাকা ২৪ পয়সা। সে হিসেবে ভোলায় ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হবে গড়ে সর্বোচ্চ ৬ টাকা ২৪ পয়সা। বিপরীতে ভোলা থেকে এলএনজি আকারে গ্যাস আনতে প্রতি ঘনমিটারে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা পরিবহন খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ৩০ মিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি পরিবহন করতে বছরে ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ১০ বছরের চুক্তিতে এ অর্থের পরিমাণ ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এছাড়া ভোলায় সঞ্চালন লাইন থাকায় নতুন করে লাইন নির্মাণে বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিপুল অর্থ সাশ্রয় সম্ভব।’

গণশুনানিতে আরো জানানো হয়, রাজধানী ও আশপাশের এলাকার গ্যাস সংকট এখন প্রকট। ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার জন্য দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। ঢাকা ও আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে এ গ্যাস সমন্বয় করা হলে রাজধানীর গ্যাস সংকট কিছুটা কমে বিদ্যুতের ঘাটতিও দূর হবে।

বর্তমানে ভোলা থেকে সিএনজি আকারে গ্যাস পরিবহন খরচ ধরা হয়েছে প্রতি ঘনমিটার ২৯ টাকা ৯০ পয়সা। আর ভোক্তা পর্যায়ে এ গ্যাস বিক্রি হচ্ছে প্রতি ঘনমিটার ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা। এ দামেই এলএনজি নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটি (টিইসি) তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, এলএনজি পরিবহন বিষয়টি নতুন হওয়ায় সুনির্দিষ্ট খরচ নির্ধারণ করা কঠিন। তাই ২৯ টাকা ৯০ পয়সা ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে কমিটি। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, বিইআরসি লাইসেন্স গ্রহণ এবং পরবর্তী গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত দর নির্ধারণের সুপারিশ করেছে তারা।

গণশুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবার মতামত শুনেছি। আরো কোনো মতামত থাকলে আগামী ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লিখিতভাবে জমা দেয়া যাবে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পাইপলাইন লাগবেই। এটি পর্যবেক্ষণে উল্লেখ থাকবে। ভোলা-বরিশাল পাইপলাইনের প্রাক-সমীক্ষা শেষ হয়েছে। সময়ের গুরুত্ব বিবেচনায় আগে ভোলা-বরিশাল পাইপলাইন বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।’

তবে ভোলা থেকে গ্যাস এলএনজি আকারে পরিবহনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন গণশুনানিতে অংশ নেয়া বক্তারা। তারা জানান, এ পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তি একেবারে নতুন। ফলে ভোলার গ্যাস কীভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তা পেতে পারে সেই পরিকল্পনা প্রয়োজন। তারা জানান, বিগত সরকারের সময়ে একটি বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দিতে ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে আনার অনুমোদন দেয়া হয়। সেখানে পরিবহন ব্যয় যেটা ধরা হয়েছে তা এখন খতিয়ে দেখতে পারে বিইআরসি। ব্যয় যথাযথভাবে যাচাই করার আগে এলএনজির দাম নির্ধারণ করা আপত্তিকর।

দেশে বর্তমানে গ্যাসের বড় ধরনের সংকট চলছে। ভোলায় যে পরিমাণ গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা রয়েছে। তার চেয়ে কম চাহিদা জেলাটিতে। পেট্রোবাংলার হিসাব মতে, ভোলায় দৈনিক মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ সেখানে আবিষ্কৃত তিনটি গ্যাস ফিল্ডে নয়টি কূপের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে দৈনিক ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। পাইপলাইন না থাকায় জাতীয় গ্রিডে এ গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে পেট্রোবাংলা ভোলায় আরো ১৫টি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। পাইপলাইন বাস্তবায়ন ও নতুন কূপ খনন শেষ হলে ভোলা থেকে দৈনিক ৩০০-৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে বাপেক্স।

ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলমান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অর্থায়ন সংকটের কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আটকে রয়েছে। গণশুনানিতে পেট্রোবাংলা, তিতাস গ্যাস, সুন্দরবন গ্যাস, বাপেক্স, জিটিসিএল, আরপিজিসিএলসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এদিকে ভোলার গ্যাস নদীপথে এলএনজি আকারে পরিবহন করার বিষয়টি গতকাল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। আলোচ্যসূচি অনুসারে, নদীপথে ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে পরিবহন করে বিতরণ কোম্পানি তিতাস অধিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করার পরিকল্পনাও করে সরকার। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত আলোচনা থেকে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

BBS cable ad

মন্ত্রনালয় এর আরও খবর: