শিরোনাম

South east bank ad

গাড়িতে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল সরকার

 প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   মন্ত্রনালয়

গাড়িতে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল সরকার

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলে বড় ধরনের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ট্রাক পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহনকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি তেল দেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে সরকার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব পেট্রোল পাম্পকে গত বছরের (২০২৫) তেল বিক্রির হিসাব থেকে ২০ শতাংশ কম তেল দেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি। তবে সরকার আপাতত তেলের দাম বাড়াবে না বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেল একদিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার অকটেন বা পেট্রোল, কার ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, এসইউভি, জিপ মাইক্রোবাস প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, পিকআপ ও লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কনটেইনার লরি ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।

এদিকে জ্বালানি তেলের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় সব পাম্পে গাড়ির দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। সবার মধ্যে একটাই আতঙ্ক তেল পাওয়া যাবে তো! তবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন করে ভোক্তাদের অভয় দিয়ে বলেছেন, সবাই অল্প অল্প করে তেল নিন। তাতে করে তেলের কোনো সমস্যা হবে না। সবাই গাড়ির ট্যাঙ্কি ভর্তি করে তেল নিলে তেলের সমস্যা হতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আগের মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ভিড়ের কারণে অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে তেলের জন্য গাড়ির লাইন দেখা গেছে। চাহিদামতো তেল কিনতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা।

গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে বাংলাদেশে তেল নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। গত ২ থেকে ৪ মার্চ পেট্রোল পাম্পগুলো তেল বিতরণে সরকারি কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপোগুলো থেকে দ্বিগুণের বেশি তেল ক্রয় করেছে। একপর্যায়ে ডিজেলের মজুত ৯ দিনের নিচে নেমে গেছে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন দেশে ডিজেল আছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৪০ টনের মতো। এ অবস্থায় শুক্র ও শনিবার ডিপোগুলো থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার সারা দেশের পাম্পগুলোতেও তেল কিনতে গাড়ির চালকদের অস্বাভাবিক ভিড় সরকারকে চিন্তিত করেছে। এরপর জ্বালানি তেল বিক্রিতে বড় ধরনের রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তেল কেনার সময় অবশ্যই ক্রয় রসিদ পাম্প থেকে সংগ্রহ করতে হবে। কারণ ওই রসিদ দেখিয়ে পরে আবার তেল কিনতে হবে ভোক্তাদের। ডিলাররা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিক্রি করবে। এছাড়া প্রতিটি ডিলার বা পাম্পের ২০২৫ সালের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের তেল বিক্রির গড় হিসাব করবে বিপিসি। সেই গড় হিসাবের ২০ শতাংশ কম তেল দেওয়া হবে ডিলার বা পাম্পগুলোকে। শুক্রবার বিকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এদিকে বিপিসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে সরবরাহ করা হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেল আমদানি মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অনেক ডিলার বা পাম্প মালিক চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া কিছু কিছু ডিলার ও পাম্পে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সরকার তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেলের পার্সেল নিয়মিতভাবে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলার বা পাম্পগুলোতে তেল দিতে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে সরকার শিগগির তেলের বাফার স্টক বা পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তুলবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসের প্রথমে সরকার তেলের দাম নির্ধারণ করেছে। এখন আর নতুন করে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সরকার এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।

BBS cable ad

মন্ত্রনালয় এর আরও খবর: