শিরোনাম

South east bank ad

আইইউবিএটির নবম সমাবর্তনে ডিগ্রি পেলেন ১ হাজার শিক্ষার্থী

 প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   মন্ত্রনালয়

আইইউবিএটির নবম সমাবর্তনে ডিগ্রি পেলেন ১ হাজার শিক্ষার্থী

দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) নবম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর বাংলাদেশ-চায়না মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের এক হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেয়া করা হয়। এছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজনকে আইইউবিএটির প্রতিষ্ঠাতা মিয়ান স্বর্ণপদক দেয়া হয়।

স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা হলেন কৃষি বিভাগের শাহরিন খন্দকার, ইংরেজি বিভাগের মোছা. লুৎফুননাহার কামিনী ও পাবলিক হেলথ বিভাগের মাহারুন্নেসা মিতু। স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জনের জন্য শাহরিন খন্দকারকে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আলিমউল্যা মিয়ান পুরস্কার দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তনে সনদ প্রদান করেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা ক্রমেই বৈশ্বিক চরিত্র ধারণ করছে। জ্ঞান সীমান্ত অতিক্রম করছে। গবেষণা আজ বিশ্বব্যাপী অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলোর জবাব খুঁজছে এবং স্নাতকদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা—দুটোর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব কেবল মজবুত একাডেমিক জ্ঞান প্রদান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, শক্তিশালী নৈতিক মূল্যবোধ, অভিযোজনক্ষমতা ও আজীবন শিক্ষার প্রতিশ্রুতি গড়ে তোলা। আইইউবিএটি বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও কৌশলগত গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে আইইউবিএটি একটি অনন্য ও ঐতিহাসিক অবস্থান দখল করে আছে। ১৯৯১ সালে অধ্যাপক আলিমুল্লাহ মিয়ান প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিল দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা মানসম্মত উচ্চশিক্ষার প্রসারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম বা ওয়ার্ড থেকে অন্তত একজন উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী গড়ে তোলার যে স্বপ্ন নিয়ে এ প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করেছিল, তা আজও দৃষ্টান্তমূলক ও গভীর দেশপ্রেমের প্রতিফলন। ‘জ্ঞানভিত্তিক এলাকা উন্নয়ন কর্মসূচি’—এ বিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ যে শিক্ষা কেবল অল্প কয়েকজনের জন্য বিশেষ সুবিধা নয়; বরং এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই জাতীয় উন্নয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।’

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ তোমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তোমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক হচ্ছো, যার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিদেশে সরকারি সেবা, বেসরকারি খাত, গবেষণা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। যেখানে যেখানে আইইউবিএটির স্নাতকেরা যাচ্ছেন, তারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং চরিত্র। এটাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।’

সমাবর্তন বক্তা ছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. জেফ কেশেন। তিনি তার বক্তব্যে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব। সমাপনী বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত আইইউবিএটি বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পথিকৃৎ। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আলিমউল্লাহ মিয়ান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইইউবিএটি অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে আসছে এবং বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উচ্চ বৈশ্বিক র‍্যাংকিং অর্জন করেছে।

BBS cable ad

মন্ত্রনালয় এর আরও খবর: