শিরোনাম

South east bank ad

খালাস কমেছে ৭৫%, গাড়ি আমদানিতে বড় ধস

 প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

খালাস কমেছে ৭৫%, গাড়ি আমদানিতে বড় ধস


 

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ি আমদানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, ডলারের উচ্চমূল্য এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গাড়ি খালাসের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের মার্চে যেখানে রেকর্ড পরিমাণ গাড়ি খালাস হয়েছিল, এবারের মার্চে তা নেমে এসেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। আমদানির এই নিম্নমুখী প্রবণতায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা।


চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে মোট ৩১টি জাহাজে করে ১৪ হাজার ১৬৪টি গাড়ি বন্দর দিয়ে দেশে এসেছিল। গত বছরের মার্চ মাসটি ছিল উল্লেখ করার মতো। শুধু ওই এক মাসেই আমদানিকারকরা বন্দর থেকে এক হাজার ৯৫৯টি গাড়ি খালাস করেছিলেন, যা ছিল একটি রেকর্ড। জানুয়ারি থেকে মার্চ—বছরের শুরুর এই তিন মাসেই মোট গাড়ি খালাস হয়েছিল তিন হাজার ৮৫৪টি।


গত বছর যেখানে মার্চ মাসে এক হাজার ৯৫৯টি গাড়ি খালাস হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের মার্চ মাসে গাড়ি খালাস হয়েছে মাত্র ৪৯৭টি। গত বছরের মার্চের তুলনায় এই বছরের মার্চে গাড়ি খালাসের পরিমাণ প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। সাধারণত জুন মাসে জাতীয় বাজেট পেশের আগে আমদানিকারকদের মধ্যে গাড়ি দ্রুত খালাস করার একটি তোড়জোড় থাকে, কিন্তু এবার সেই চিরচেনা ব্যস্ততা বন্দরে অনুপস্থিত।


গাড়ি আমদানির এই নজিরবিহীন পতনের পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৯৫০টির মতো গাড়ি আমদানি হলেও মার্চ মাস থেকে তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে অর্থনীতির ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন বিলাসদ্রব্য পরিহার করে জরুরি প্রয়োজনে অর্থ সঞ্চয় করতে চাচ্ছে। এটিই আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাড়ি আমদানিতে ৮০০ থেকে ৮৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়।


বছরের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ডলারের ক্রমবর্ধমান দাম এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কড়াকড়ি।


আমদানিকারকদের মতে, একটি গাড়ি আমদানির পর তা অবিক্রীত অবস্থায় বন্দরে বা শোরুমে পড়ে থাকলে প্রতিদিন বড় অঙ্কের সুদ গুনতে হয়। একদিকে আমদানিতে বাড়তি খরচ, অন্যদিকে ক্রেতার অভাব—এই দ্বিমুখী সংকটে অনেক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।


সামনে জাতীয় বাজেট। এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব পাঠিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির সময়সীমা বৃদ্ধি করা এবং শুল্ককাঠামোর যৌক্তিকীকরণ। বর্তমানে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে যে অবচয় সুবিধা দেওয়া হয়, তা বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গাড়ি এখন কেবল বিলাসিতা নয়, বরং যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। যদি শুল্ক কমিয়ে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা যায় এবং ব্যাংকগুলো এলসি সুবিধা সহজ করে, তবেই এই স্থবিরতা কাটানো সম্ভব। অন্যথায় চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয়ের একটি বড় খাত দীর্ঘমেয়াদি মন্দার কবলে পড়বে।


গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছি। ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা আর ডলার সংকটের কারণে আমরা সময়মতো এলসি খুলতে পারছি না, পেমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়েও নানা জটিলতা পোহাতে হচ্ছে। 


তিনি আরও বলেন, বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ কমে যাওয়ায় শোরুমগুলোতে গাড়ি বিক্রিও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অথচ আমাদের ব্যাংকঋণ ও শোরুমের খরচ নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে।

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: