মেয়াদ শেষে থাকতে পারবে না ‘অ্যাকর্ড’
পোশাক খাতে সংস্কারবিষয়ক ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড মেয়াদ শেষে চলে যেতে হবে। তারা থাকতে চাইলে মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে আবারও আলোচনায় বসতে হবে। অ্যাকর্ডকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন (বিজিএমইএ)।
সোমবার বিজিএমইএর সঙ্গে অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশের (অ্যাকর্ড) এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৫ সদস্যের পরিচালনা কমিটি অংশ নেয়। সভা শেষে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এই কথা জানান।
তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হলে অ্যাকর্ডকে চলে যেতে হবে। যদি তারা থাকতে চায় তবে নতুন করে আলোচনা করতে হবে।
জানা গেছে, দেশের তৈরি পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ মূল্যায়নে গত চার বছর ধরে পরিদর্শন কর্মসূচিতে নিয়োজিত আছে ইউরোপভিত্তিক ক্রেতা ও শ্রমিক সংগঠনের এই জোট । ২০১৮ সালের জুন মাসে জোটটির কর্মসূচির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। সম্প্রতি এক বছর বাকি থাকতেই মেয়াদ আরো তিন বছর বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। তবে জোটটির এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত।
তারপরও অতিরিক্ত সময় কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অস্পষ্টতা সৃষ্টি
হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার এবং বিজিএমইএর সঙ্গে অ্যাকর্ডের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির পৃথক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবারের বিজিএমইএর বৈঠক ছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়য়ে সঙ্গে বৈঠক করবে তারা। আগামী বৃহস্পতিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বিজিএমইএ বা সরকার কোনো পক্ষই দ্বিতীয় মেয়াদে অ্যাকর্ডকে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়ার পক্ষে নয়। শুধু তাই নয়, সংগঠনটির চলমান কার্যেক্রমেও সংস্কার চেয়েছে বিজিএমইএ। বিজিএমইএর কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আরও বেশ কিছু দাবি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিজিএমইএ সঙ্গে বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সংস্কার কার্যক্রমে অ্যাকর্ডের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতে ব্যর্থ কারখানা তালিকা থেকে বাতিলের বিষয়ে কঠিন না হওয়া। এক্ষেত্রে বলা হয়, একই গ্রুপের ৮টি কারখানা যদি অ্যাকর্ডের তালিকায় খাকে, এর মধ্যে একটি কারখানা অ্যাকর্ডের প্রেসক্রিপশন মানতে ব্যর্থ হলে , তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে অ্যাকর্ড। এতে ওই গ্রুপের বাকি কারখানাগুলো বেকায়দায় পড়ে। পণ্য রফতানিতে সমস্যা হয়।
এছাড়া প্রাথমিকভাবে সেব কারখানা এ্যাকর্ডের সংস্কার পরিকল্পনা (ডেপ) শর্ত পূরণ করতে পেরেছে, তাদেরকে সংস্কার সনদ দিয়ে দিতে হবে।
বিজিএমইএর এসব প্রস্তাবে রাজি হয়ে পরবর্তীতে বাস্তবায়নে রাজি হয়েছে অ্যাকর্ড। পরবর্তীতে কার্যক্রম পরিচালনায় তারা বিজিএমইএর মনিটরিং কমিটির সঙ্গে কাজ করবে বলে জানায়। বতর্মান মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই দ্বিতীয় মেয়াদে ঠিক আগের মতোই স্বাধীনভাবে সংস্কার কাজ চালিয়ে যেতে চায় অ্যাকর্ড। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর একই বছরের ১৫ মে ইউরোপের ২০টি দেশসহ উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ২০০ ব্র্যান্ড ও খুচরা ক্রেতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের সমন্বয়ে অ্যাকর্ড গঠিত হয়। জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অ্যাকর্ডের বৈঠকে অতিরিক্ত সময় থাকা না থাকার বিষয়টিই মুখ্য আলোচ্য বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত মেয়াদ না বাড়ানোর কথা বলা হবে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, অ্যাকর্ডকে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে দেওয়া হবে না। অ্যাকর্ডের পক্ষে দ্বিতীয় মেয়াদের সিদ্ধান্ত জানার পরই এক প্রতিক্রিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এ দেশে নতুন করে কাজ করতে হলে সরকারের সঙ্গে তাদের নতুন করে চুক্তি করতে হবে। এ বিষয়ে এখনও তাদের সঙ্গে সরকারের কোনো আলোচনা হয়নি।
আগামী বছরের মে মাসে তাদের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।


