কেসিসির ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা
নিজস্ব তহবিলের অর্জনের হার ৭১ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং উন্নয়ন তহবিলের অর্জনের হার ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন। প্রস্তাবিত এ বাজেটে রাজস্ব তহবিলের সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
একইভাবে সরকারি অনুদান দ্বিতীয় অংশে ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। উন্নয়ন খাতে বিশেষ প্রকল্পে ৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিগত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, সংশোধিত আকারে তা দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। নিজস্ব তহবিলের অর্জনের হার ৭১ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং উন্নয়ন তহবিলের অর্জনের হার ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।
বাজেট ঘোষণাকালে বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, ‘বাজেটে এবারো নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌর কর আদায়, নবনির্মিত সব স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে কর ধার্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে করপোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এটি একটি উন্নয়নমুখী বাজেট।’
বাজেট অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। এ সময় ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, রাজনৈতিক নেতারা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কেসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন, ধর্মীয় উপাসনালয়-পার্ক-বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-রাস্তাঘাট উন্নয়ন, কেসিসির বিভিন্ন দপ্তর আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি জানান, কেসিসির সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে মোট ৭৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ত খাত, বিএমডিএফ, অবকাঠামো নির্মাণ, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সমাজকল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি ও কনজারভেন্সি খাত মিলিয়ে মোট ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং মূলধন খাতে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেটে এডিপির জন্য থোক ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। এ বরাদ্দ থেকে পূর্ত খাতে ৯২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানির চাহিদা মেটানোর জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভেটেরিনারি খাতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও কনজারভেন্সি খাতে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, বর্তমানে সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। বাজেটে এসব প্রকল্পে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা, হেলদি সিটি খুলনা আরবান লিড প্রোগ্রামে ১৩ লাখ টাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতি মোকাবেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নগর অঞ্চল প্রকল্প-২-এ ২০ কোটি টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেশন আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-২-এ ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা, কভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্পে ১৬ কোটি ৩১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, স্মার্ট ওয়াশ ইনিশিয়েটিভ বাই ইউনিসেফ প্রকল্পে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, লিভেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিটিস ফর অল প্রকল্পে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রিজিওনাল আরবান টিউটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


