শিরোনাম

South east bank ad

করপোরেট কর ও ভ্যাট হ্রাস শুল্ক প্রত্যাহারসহ নানা প্রস্তাব

 প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

করপোরেট কর ও ভ্যাট হ্রাস শুল্ক প্রত্যাহারসহ নানা প্রস্তাব

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাতে করপোরেট কর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০-৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।

তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর অন্যান্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি, যা ব্যাংকের নিজস্ব আয় থেকে মূলধনে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। সেখানে যদি ব্যাংকগুলো নিজস্ব আয় থেকে মূলধন বৃদ্ধি করে তাহলে ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে। যার মাধ্যমে ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে এবং জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে গতকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ২০টি প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক খাতের করপোরেট কর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ের সীমা প্রত্যাহার, ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর করহার হ্রাস, ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে আয় আগের মতো করমুক্ত রাখা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সীমা ৫ লাখ টাকা করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব।

সভায় এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘ব্যাংক খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে; তারা নগদ লভ্যাংশ দিতে পারছে না—শুধু স্টক ডিভিডেন্ডে সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। ডিভিডেন্ডের ওপর কর যেহেতু শেয়ারহোল্ডারের আয়, তাই বিদ্যমান করহার প্রযোজ্য হওয়াই যৌক্তিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ। অতীতে এ প্রভিশনকে ব্যয় হিসেবে গণ্য করা হতো, কিন্তু বর্তমানে তা সীমিত করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রভিশনকে আবার ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে ব্যাংকগুলো তাদের আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে। এতে দুর্বল ব্যাংকগুলো পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবে ও সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাত স্থিতিশীল হবে। তবে শুধু প্রভিশন করলেই হবে না, প্রয়োজনে খারাপ ঋণ রাইট অফ করাও জরুরি। কারণ প্রকৃত ক্ষতিকে স্বীকার না করলে সঠিক আর্থিক চিত্র পাওয়া যায় না।’

একই সঙ্গে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দেখানো নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দাখিল করা বাধ্যতামূলক করার ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিশেষত গ্রামীণ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে—কেউ জমি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংকে জমা না রেখে নগদ রাখছেন, কারণ এতে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়, যা অনেকের কাছে জটিল ও ভীতিকর মনে হয়।’

এ প্রসঙ্গে এনবিআর কাজ করছে জানিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমানে আমরা এমন একটি সিস্টেম নিয়ে কাজ করছি, যেখানে ব্যাংকের ডিপোজিট-সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি ট্যাক্স রিটার্ন সিস্টেমে যুক্ত হবে। ফলে একজন করদাতা লগইন করলেই তার ব্যাংক হিসাবের চারটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখতে পাবেন—ক্লোজিং ব্যালান্স, অর্জিত মুনাফা, মুনাফার ওপর কাটা কর ও ব্যাংক চার্জ। এতে কর রিটার্ন প্রস্তুত করা সহজ হবে ও আলাদাভাবে ব্যাংক থেকে সনদ সংগ্রহের প্রয়োজন পড়বে না।’

তবে করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। সংগঠনটি রাজস্ব নীতি পুনর্গঠনের প্রস্তাবে বলেছে, সব ব্যাংক স্বচ্ছভাবে আয় থেকে কর পরিশোধ করে এবং এনবিআরের পক্ষে কর ও ভ্যাট সংগ্রহে কাজ করে। অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেটি ৩৭ শতাংশ, এটি ৩৫ শতাংশ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রবাসী আয়ের উৎস কর বাতিল করা ও ব্যক্তি পর্যায়ে করযোগ্য আয়সীমা ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএবি।

এদিকে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ১৬টি প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি সাইদ আহমেদ। এর মধ্যে রয়েছে বীমার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ওপর কর বাতিল করে লভ্যাংশের ওপর ধার্য করা, পুনঃবীমা কমিশনের বিপরীতে ১৫ শতাংশ উৎসে মূল্য সংযোজন কর আদায়, করপোরেট কর ২৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং স্বাস্থ্যবীমায় ট্যাক্স বাতিলসহ অন্যান্য প্রস্তাব।

তবে সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বীমা খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্বলতা রয়েছে উল্লেখ করে এসব দূর করে সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে করদাতাদের আস্থা ফিরে আসবে না। বরং এ খাতকে কেন্দ্র করে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আরো বাড়বে। গভর্ন্যান্স ইমপ্রুভমেন্ট না হলে মানুষ ভাববে, জোর করে বীমা কোম্পানিকে লাভবান করা হচ্ছে।’

প্রাক-বাজেট আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা।

এদিন বিকালে সেবা খাতের ১০টি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সেখানে এসব সংগঠনের নেতারা তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএইচএ), বাংলাদেশ হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বার মালিক সমিতি (বিএইচআরবিওএ), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি (বিএফপিডিএ), অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এএএবি), বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ), বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিসিডিওএ), বাংলাদেশ বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিবিএমএ), বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), বাংলাদেশ মিষ্টি প্রস্তুতকারক সমিতি (বিএসএমএ) ও বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির (বিআরওএ) প্রতিনিধিরা।

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: