কোকিং কয়লার দাম বাড়ায় চাপে ভারতের ইস্পাত খাত
বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে কোকিং কয়লার। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে মুনাফা কমেছে ভারতের ইস্পাত কারখানাগুলোর। একই সময়ে কম দামের চীনা ইস্পাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে কারখানাগুলোকে।
তাই উৎপাদন খরচ বাড়লেও ইস্পাতের দাম বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
ইস্পাত তৈরিতে কোকিং কয়লা গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদক দেশ ভারত। কিন্তু দেশটির ইস্পাত শিল্প পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ায় চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ কোকিং কয়লা আমদানি করে। এর অন্তত অর্ধেক আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে।
ইস্পাত উৎপাদনের মোট ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই কোকিং কয়লার পেছনে যায়। পণ্যের দাম নির্ধারণ ও বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিআরইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) অস্ট্রেলিয়ায় উন্নত মানের শক্ত কোকিং কয়লার দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন গড়ে ২৩৬ ডলারে উঠেছে।
সিআরইউর ধাতব কয়লা ও কোক বাজার বিভাগের প্রধান বানমিত খুরমি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন, নতুন খনিতে প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতিতে উৎপাদন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এ বছর কয়লার দাম বেড়েছে। সম্প্রতি চীনের শানসি প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে বড় দুর্ঘটনাও সরবরাহের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।’
ফিচ সলিউশনসের একটি প্রতিষ্ঠান বিএমআইয়ের পণ্যবাজার বিশ্লেষক ফ্রেডি ব্রুকস বলেন, ‘বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও (জুলাই-ডিসেম্বর) কোকিং কয়লার দাম বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শানসির খনি দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ চাপ আরো বাড়তে পারে।’
একটি বড় ইস্পাত কারখানার একজন কর্মকর্তা জানান, কোকিং কয়লার দাম প্রতি টনে ১০ ডলার বাড়লে ইস্পাত উৎপাদনের খরচ প্রায় ৭-৯ ডলার বেড়ে যায়।
ভারতের ইস্পাত কারখানাগুলো এরই মধ্যে বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছে। তবে চীন থেকে কম দামের ইস্পাত আসায় তারা সহজে পণ্যের দাম বাড়াতে পারছে না। কিছু ইস্পাতপণ্যে আমদানি শুল্ক থাকলেও ভারতে চীনা ইস্পাতের সরবরাহ বেড়েছে।
পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিগমিন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের কোকিং কয়লা আমদানি ৬ কোটি ৪০ লাখ টন থেকে ২০-৩০ লাখ টন বাড়তে পারে।
চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে জ্বালানি, জাহাজ ভাড়া ও বীমা ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের কোকিং কয়লার প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সামনে থাকবে। তবে রাশিয়া, মোজাম্বিক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আমদানি বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে মোজাম্বিক ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।


