শিরোনাম

South east bank ad

নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তামাক ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়

 প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কনজুমার প্রোডাক্টস

নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তামাক ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শুল্ক ও কর কাঠামোর সুনির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের কারণে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তামাক ও নির্মাণসামগ্রী (বিশেষ করে ইস্পাত বা রড উৎপাদনকারী) খাতের ব্যবসায়িক মুনাফা এবং উৎপাদন খরচের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একদিকে তামাক খাতে করের আওতা বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারি, অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব এ দুই খাতের ব্যবসার ওপর চাপ তৈরি করেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর বাজেট প্রস্তাবের প্রভাব নিয়ে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাজেট প্রস্তাবে তামাক খাতের ওপর বহুমাত্রিক করের চাপ ও কঠোর নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। সিগারেটের নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম—সব স্তরেই সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ফিল্টার আমদানির ওপর নতুন করে ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

বাজেটে সিগারেট উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে এবং কর ফাঁকি রোধে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ও উচ্চ করের কারণে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে সিগারেট কেনার পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তালিকাভুক্ত অন্য সব কোম্পানির তুলনায় তামাক খাতের কোম্পানির জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর ও ২ দশমিক ৫ শতাংশ সারচার্জ বহাল রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সিগারেট বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়ায় মুনাফা নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি)। এসব প্রস্তাব কার্যকর করা হলে সামনে কোম্পানিটির পরিচালন ও নিট মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ইস্পাত উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এতে নির্মাণসামগ্রী খাতের ব্যবসায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইস্পাত উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানোর ফলে মিল মালিকদের কাঁচামাল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের খরচ বাড়বে। বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী, তখন এ ভ্যাট বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়িয়ে দেবে।

ইস্পাত খাতের কোম্পানিগুলো যদি এ বর্ধিত ভ্যাটের সম্পূর্ণ চাপ ভোক্তার ওপর (রডের খুচরা মূল্য বাড়িয়ে) তাৎক্ষণিকভাবে চাপাতে না পারে, তবে তাদের মুনাফার মার্জিন সংকুচিত হবে। তবে বর্তমানে আবাসন ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কিছুটা ধীর থাকায় কোম্পানিগুলোর পক্ষে ইস্পাতের দাম একবারে বেশি বাড়ানো কঠিন হতে পারে। এতে তালিকাভুক্ত ইস্পাত কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড ও জিপিএইচ ইস্পাতের পরিচালন মুনাফায় সাময়িক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অবশ্য বাজেট প্রস্তাবে করনীতিতে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে বেশির ভাগ তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতের ব্যবসার জন্য অনুকূল যেসব নীতি প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, আমরা নেটওয়ার্কস, এডিএন টেলিকম, বিডিকম অনলাইন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, জেএমআই সিরিঞ্জ, জেনেক্স ইনফোসিস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, সিঙ্গার বাংলাদেশ, রানার অটোমোবাইলস, এসিআই, সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, খুলনা পাওয়ার, বারাকা পাওয়ার, এমজেএল বাংলাদেশ, পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, স্কয়ার টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, মতিন স্পিনিং ও এপেক্স ফুটওয়্যারের মতো কোম্পানিগুলো সুবিধা পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

BBS cable ad

কনজুমার প্রোডাক্টস এর আরও খবর: