ফলোআপ : সেই দলিল লিখক কে শোকজ
মশিউর রহমান কাউসার, (গৌরীপুর) :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জাল খাজনা রশিদে জমির দলিল রেজিস্ট্রির সময় হাতে নাতে স্থানীয় সজীব নামে এক যুবক ধরা পড়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলিল লিখক আব্বাস আলী সরকার (সনদ নং-৪৩৬৩) কে শোকজ করেছেন সাব রেজিস্টার। গৌরীপুর সাব রেজিস্টার অফিসের অফিস সহকারী আম্বিয়া খাতুন এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর জাল খাজনা রশিদ তৈরী করে জমির দলিল রেজিস্ট্রির সময় বরখাস্ত হওয়া ন্থানীয় দলিল লিখক সজিবকে হাতে-নাতে ধরে ৩ ঘন্টা আটক করে রাখার পর কোন আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে ছেড়ে দেন সাব রেজিস্টার। এ ঘটনায় বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পর ওই দলিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আব্বাছ আলী সরকারকে শোকজ করেন সাব রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ মাহফুজুর রহমান।
এদিকে প্রতারক যুবককে হাতে নাতে ধরার পর তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় সাব রেজিস্ট্রারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলিল লিখক আব্বাছ আলী সরকার বলেন, ‘আমি সরল বিশ^াসে সজিবের প্ররোচনায় দলিলে স্বাক্ষর করেছিলাম। দলিলের কাগজপত্রের সঙ্গে জাল খাজনার রশিদটি তখন তিনি শনাক্ত করতে পারেনি।’ সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ ঘটনায় কোন শোকজ লেটার এখনো পাননি তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন দলিল লিখক অভিযোগ করে জানান, অফিস সহকারী আম্বিয়া খাতুনের সহযোগিতায় বরখাস্ত হওয়া দলিল লিখক সজিব অন্য দলিল লিখকের স্বাক্ষর নিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরী করে জমি দলিল রেজিস্ট্রির কাজ করে আসছিলেন। ৫ সেপ্টেম্বর হাতে নাতে ধরা পড়ায় এ ঘটনায় সকলের টনক নড়ে।
সাব রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী আম্বিয়া খাতুন জানান, সজিবের সাথে তার কোন পূর্ব পরিচয় নেই। ঘটনারদিন সজিবকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি কোন সহযোগিতা করেননি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দলিল লিখক আব্বাছ আলী সরকারকে শোকজ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গৌরীপুর পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দিপক কুমারকে জাল খাজনার রশিদ বিষয়ে অবগত করা হলে তিনি জানান, সাব রেজিস্ট্রি অফিসে খাজনা পরিশোধের যে রশিদটি জমা করা হয়েছে তা যাচাই করে দেখা গেছে এরকম কোন রেকর্ড ভূমি অফিসে নেই। এটি একটি জাল খাজনা পরিশোধের রশিদ। প্রতারক যুবকে হাতে নাতে ধরে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে ঘটনাটি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।


