শিরোনাম

South east bank ad

লকডাউনেও বন্ধ হয়নি যৌনপল্লী: করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি

 প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   সারাদেশ

লকডাউনেও বন্ধ হয়নি যৌনপল্লী: করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি

খন্দকার রবিউল ইসলাম (রাজবাড়ী) : মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রাজবাড়ী জেলা থাকলেও লকডাউনেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পতিতালয়। এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় কণিকালয় গুলোর একটি।

মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে রাজবাড়ী জেলা। দেশের করোনার উচ্চ সংক্রমিত ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি জেলার মধ্যে রাজবাড়ী জেলা রয়েছে ৯নম্বর স্থানে।

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের প্রথম দিনে রাজবাড়ী জেলায় স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন মেনে চলতে এবং মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করার লক্ষে প্রশাসন মাঠে তৎপর থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার যৌনপল্লী বন্ধ করা হয়নি।

সরকারী নির্দেশে সারা দেশে ৭দিনের ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হলেও এখানে তার কোনো প্রভাব পড়েনি এ পতিতালয়ে। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক খদ্দের আসছে এখানে। পেশাগত কারণে তাদের সময়ও দিচ্ছেন যৌনকর্মীরা।

সরকারী হিসাব মতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে ১হাজার ৬০০যৌনকর্মীর বসবাস।তবে বিভিন্ন এনজিও এ সংখ্যাকে ৫হাজারের বেশি দাবি করে আসছে। এখন যে হারে মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে, তাতে যৌনপল্লীর এমন ঘিঞ্জি পরিবেশে যেখানে অল্প জায়গায় অনেক মানুষের বসবাস যেখানে স্বাভাবিক সময়েই মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে। পল্লীর খদ্দেরদের কে কোথায় থেকে এসেছে, তার শারীরিক অবস্থা কি তা জানার কোন উপায় নেই এমন পরিস্থিতিতে পল্লীর অনেক বাসিন্দারাও এখনো অসচেতন। ফলে একবার এখানে সংক্রমণ ছড়ালে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যৌনকর্মীর অনেকেই জানান, আমরা পেটের দায়ে এখানে রয়েছি।প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খদ্দের আসা-যাওয়া করেন। পেশাগত কারণে তাদের ঘরে নিতে হয়, না বলার সুযোগ নেই। কিন্তু এদের মধ্যে কে করোনায় আক্রান্ত, কে সুস্থ্য তা শনাক্তের কোনো উপায় পল্লীতে নেই। এজন্য আতঙ্কে রয়েছি। কিন্তু কাজ না করলে যে পেটেও ভাত যাবে না। গত বছর করোনায় পল্লী বন্ধ ছিল। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত পল্লীর স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে, লোকজন যদিও একটু কম। এত ঘিঞ্জি পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব নয়। তবে আমরা ব্যক্তিগতভাবে কিছু সাবধানতা অবলম্বনের চেষ্টা করছি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বিষয়ে সরকারী কোনো নির্দেশনা আসেনি। এজন্য আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২০২০ সালের ২০শে মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২০দিনের জন্য দেশের বৃহত্তম যৌনপল্লী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পতিতালয় বন্ধ করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ওই সময়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৫ই এপ্রিল থেকে লকডাউন শুরু শুরু হলেও যৌনপল্লী বন্ধ করা হয়নি।

BBS cable ad

সারাদেশ এর আরও খবর: