শিরোনাম

South east bank ad

জ্বালানি সংকটে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজে ধীরগতি

 প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   সারাদেশ

জ্বালানি সংকটে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজে ধীরগতি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাই,–সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজী এলাকায় গড়ে ওঠা জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজে।

চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পাওয়ায় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, মাসিক প্রায় তিন লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা থাকলেও বর্তমানে এর অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদনে থাকা ও নির্মাণাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও ধীরগতি নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্তমানে ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে গেছে। এর মধ্যে এশিয়ান পেইন্ট, ম্যাগডোনাল্ড স্টিল, মডার্ন সিনট্রেক, যোজু কেমিক্যাল, জাপানের নিপ্পন স্টিল, বসুন্ধরা রেডি মিক্স অন্যতম। উৎপাদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরো তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান—বসুন্ধরা কেমিক্যাল, হেলথ কেয়ার ও কিয়াম। এছাড়া নির্মাণাধীন রয়েছে আরো ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় জ্বালানি চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারছে না, যে কারণে উন্নয়নকাজে ধীরগতি তৈরি হয়েছে।

বেজা সূত্রে আরো জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও বেজার অর্থায়নে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ক, ২৫ কিলোমিটার ড্রেন, দুটি সেতু ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে; পাশাপাশি বেজার নিজস্ব অর্থায়নও রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে শুরু হওয়া এসব নির্মাণকাজ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে।

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ দশমিক ১০৯ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর, তিনটি প্রবেশ গেট, তিনটি নিরাপত্তারক্ষী কক্ষ, ২২টি ওয়াচ টাওয়ার, ২২ দশমিক ১০৯ কিলোমিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি জ্বালানিনির্ভর। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এসব যন্ত্রপাতির সিংহভাগই বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এনডিইর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আজিজুল হক বণিক বার্তাকে জানান, তাদের দৈনিক প্রায় ১৯ থেকে ২২ হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হলেও গত দুই সপ্তাহে গড়ে মাত্র ৭ থেকে ৯ হাজার লিটার সরবরাহ মিলছে। প্রয়োজনের তুলনায় এ ঘাটতির কারণে ভাড়া করা বেশির ভাগ ভারী যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্মাণাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘বার্জার পেইন্ট’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আসিফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের দৈনিক প্রায় দুই-তিন হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হলেও তা চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে কারখানার নির্মাণকাজ আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’ বিষয়টি এরই মধ্যে বেজা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে মিরসরাই ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’-এর প্রকল্প পরিচালক সাইফুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জ্বালানি সংকট এখন বৈশ্বিক সমস্যা, আমাদের উন্নয়নকাজেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে আমরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছি।’

BBS cable ad

সারাদেশ এর আরও খবর: