গহনা বিক্রি কমে বিনিয়োগ বেড়েছে স্বর্ণের বার ও কয়েনে
চলতি বছর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের গহনা বিক্রি কমলেও বার ও কয়েন বা ভৌত বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গহনার কেনাকাটাকে পেছনে ফেলে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদার বড় অংশ দখল করতে যাচ্ছে ভৌত বিনিয়োগ। আন্তর্জাতিক মূল্যবান ধাতুবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাসের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চড়া দামের কারণে গহনা বিক্রিতে ধস নামায় এ বড় পরিবর্তন আসছে। খবর রয়টার্স।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহে গত জানুয়ারিতে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে রেকর্ড ছোঁয়ার পর দাম প্রায় ২০ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় চড়া দামে স্বর্ণ কেনা সাধারণ ক্রেতারা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন।
মেটালস ফোকাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যপতনের পরও ২০২৬ সালের শেষার্ধে বাজারে আবার চাঙ্গাভাব ফিরে আসতে পারে। চলতি বছর স্বর্ণের গড় দাম ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে বার্ষিক রেকর্ড ৪ হাজার ৯২০ ডলারে পৌঁছতে পারে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে আপৎকালীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকেই আবার ঝুঁকবে মানুষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত গহনা ও বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনাকাটা কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের সামগ্রিক চাহিদা প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে। তবে বার ও কয়েনে বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ বেড়ে ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যেখানে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে চীন।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতায়ও এবার পরিবর্তন আসছে। সাধারণত বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ মজুদ করে। তবে জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে স্থানীয় মুদ্রার মান ধরে রাখতে অনেক দেশ তাদের তরল সম্পদ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল করার এ প্রক্রিয়ায় অনেক দেশ নিজেদের মজুদ থাকা স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছে। পাশাপাশি চলতি বছর বিশ্ববাজারে রাশিয়ার স্বর্ণ বিক্রির পরিমাণও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


