এলডিসি উত্তরণের পর উচ্চ শুল্ক রাখা যাবে না তাই কমানো হচ্ছে
বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশের তালিকায় যাবে বা এলডিসি উত্তরণ ঘটবে তখন বর্তমানের মতো উচ্চ শুল্ক কাঠামো রাখা যাবে না। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে ক্রমান্বয়ে তা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থ বিবেচনা করে গত দেড় বছরে চাল, পেঁয়াজ, আলু, ডিম ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়নি। উল্টো আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকার মূলত রাজস্বের চেয়ে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব ভবনে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এ সময় জানানো হয়, ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) ঘোষিত আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ এনবিআরে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউজ ও কাস্টম স্টেশনেও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘শুধু দেশীয় কিছু শিল্পের সুরক্ষায় কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া বিশ্বের কোনো দেশেই বর্তমানে শুল্ক, রাজস্ব আয়ের বড় উৎস নয়; বরং অবৈধ পণ্যের আমদানি বন্ধ করা ও মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অর্থ পাচার ঠেকানো শুল্ক বিভাগের প্রধান কাজ।’ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রাজস্ব আয়ের মধ্যে শুল্কের অবদান ছিল ২৭ শতাংশ বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘ফলের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে—এ তথ্য সঠিক নয়। গত দেড় বছরে ফলের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়নি, বরং আমদানির ওপর আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমানো হয়েছে।’ ফলের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বৈদেশিক মুদ্রার (ডলার) মূল্যবৃদ্ধি, যা ৮০-৮৫ থেকে বেড়ে ১২৬-১২৭ টাকা হয়েছে বলেও দাবি করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই একদিনের মধ্যে খালাস হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেরি হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ থাকে।’
তিনি দাবি করেন, ‘কোনো পণ্যের বিষয়ে যদি বিশেষ কোনো গোয়েন্দা তথ্য থাকে যে পণ্যটি সঠিক নয়, তবে তার শারীরিক পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের (যেমন কৃষি মন্ত্রণালয়, পরমাণু শক্তি কমিশন বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) নিয়ম অনুযায়ী কিছু পণ্যের বিশেষ পরীক্ষা বা নিরোধক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এ পরীক্ষাগুলোর সিদ্ধান্ত এনবিআর নেয় না, বরং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো নেয়।’
ঘোষণা দেয়া তথ্যের বাইরে যখন অন্য পণ্য পাওয়া যায় (যেমন তুলার ভেতরে ধূমপানের শলাকার ছাঁকনি বা কাপড়ের বদলে অন্য কিছু), তখন সেই চালানগুলো আটকে দেয়া হয় বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘অনেকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য পণ্যের ভুল শ্রেণীবিভাগ সংকেত ব্যবহার করেন, যা বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুল্ক কর্মকর্তাদের মূল লক্ষ্য থাকে যত দ্রুত সম্ভব আইন মেনে পণ্য খালাস করা।’ পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান আব্দুর রহমান খান।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘কেবল তখনই শুল্ক বাড়ানো হয়, যখন দেশী উৎপাদকরা বিনিয়োগ রক্ষার আবেদন করেন এবং বিদেশী পণ্যের দাম দেশী পণ্যের চেয়ে কম হয়ে যায়। তবে এটি ব্যাপক আলোচনার পরই করা হয়।’


