মোবাইল ফোনের ওপর শুল্ক কমাল সরকার
দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা মোবাইল ফোনের ওপর নির্ধারিত শুল্ক কমিয়ে এনেছে সরকার। স্মার্টফোনের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধে মোবাইল ফোন আমদানি শুল্ক ৬১ থেকে কমিয়ে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের গতকালের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে যেটা ২৫ শতাংশ ছিল, তা কমিয়ে এখন ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যারা মোবাইল ফোন এখানে (দেশে) ম্যানুফ্যাকচার করেন তাদের জন্য কাস্টমস যেটা আগে ১০ শতাংশ ছিল সেটা ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে আশা করা হচ্ছে যে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি আরো বেশি ব্যাপকতা পাবে। বাংলাদেশের মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারিং করতে আরো অনেকে ইন্টারেস্টেড হবেন।’
তিনি আরো জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং বর্তমানে বাজারে থাকা মোবাইল ফোন বৈধকরণের সব যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৈধ আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন উভয়ই উৎসাহিত হবে এবং বাজারে মোবাইল ফোনের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলেও সরকার আশা করে। আমদানির বিপরীতে উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক কমানোর বিপক্ষে মত থাকলেও বাস্তবতা বিবেচনায় সিডি ৬০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে চলমান অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লোকসান হবে বলে জানান প্রেস সচিব।
এদিকে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জনপ্রতি সিম কমিয়ে আনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, অভিযুক্ত খুনির ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে এনইআইআর বাস্তবায়ন ও জনপ্রতি সিম সংখ্যা কমানোর তাগিদ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে আমদানি হওয়া ফোন এ মুহূর্তে নিয়মের আওতায় আনার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর পরও যারা বিটিআরসিতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে, তারা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মোবাইল আমদানি রোধে দেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরের কাস্টম হাউজে কঠোর অভিযান শুরু হবে।’


