শিরোনাম

South east bank ad

২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৩%

 প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৩%

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্য নীতির নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতি চলতি বছর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ এ প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। গত অক্টোবরে দেয়া প্রাক্কলনের তুলনায় এবারের পূর্বাভাসে চলতি বছর বৈশ্বিক জিডিপির সম্ভাব্য হার দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছে আইএমএফ। খবর এপি ও রয়টার্স।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিনকাস ও তার সহকর্মী টোবিয়াস অ্যাড্রিয়ান এক ব্লগ পোস্টে জানান, মার্কিন প্রভাবিত বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতিতে লক্ষণীয় মাত্রায় স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এআই অবকাঠামো নির্মাণে এখন বড় ধরনের বিনিয়োগ হচ্ছে। প্রযুক্তির এ অগ্রগতি বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে।

যদি এআই প্রযুক্তির সুফল দ্রুত নিশ্চিত করা যায়, তবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি অতিরিক্ত দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ীরা এখন মার্কিন শুল্কনীতি উদ্ভূত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করছেন। আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর শুল্কহার ২৫ থেকে কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ শুল্কের প্রভাব এড়াতে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ চেইনে পরিবর্তন এনেছেন।

পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিনকাস জানান, রফতানি পণ্য এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে সরিয়ে নিচ্ছে চীন। এর মাধ্যমে মার্কিন শুল্কের কারণে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে দেশটি।

প্রতিবেদনটিতে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য পৃথক পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০০১ সালের পর প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে, যা আগের পূর্বাভাস ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে শুল্ক কিছুটা কমায় চীনের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা না বাড়ালে বেইজিং দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ।

গত বছরের তুলনায় ভারতের প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমতে পারে। তবে ২০২৬ সালে দেশটি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে ভারত। অন্যদিকে সরকারি ব্যয় বাড়ার ফলে ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১ দশমিক ৩ শতাংশে। এছাড়া নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাবে জাপানের প্রবৃদ্ধিও থাকবে ঊর্ধ্বমুখী।

বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমে আসার ধারা চলতি বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। ২০২৬ সালে তা আরো কমে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। মূল্যস্ফীতি কমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার কমানোর সুযোগ পাবে। এতে মুদ্রানীতি আরো সহজ হবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে সাহায্য করবে।

তবে প্রবৃদ্ধির এ ইতিবাচক ধারার মধ্যেও কিছু ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে আইএমএফ। এআই বুমিংয়ের কারণে পুঁজিবাজারে অতিরঞ্জিত মূল্যায়ন তৈরি হলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের দরপতনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা চলছে। এর আসন্ন রায় বাজার নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: