সুতা আমদানি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত কিছু তথ্যকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্পিনিং খাত ও সুতা আমদানি বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে এক বিবৃতিতে বিটিএমএ সভাপতি জানান, বিটিএমএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সঙ্গে আলোচনা করেই ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেবল ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা (এইচএস কোড ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭) বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার সুপারিশ করেছে।
এতে নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে সেফগার্ড ডিউটি আরোপেরও কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
শওকত আজিজ বলেন, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। বরং এই সুবিধার মূল উপকারভোগী হচ্ছে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে, দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেও পার্শ্ববর্তী দেশের সরকারের দেওয়া প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ সেন্ট ভর্তুকির কারণে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে এবং টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরো বলেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এমন কিছু সুতাকে বন্ড সুবিধার আওতামুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যেগুলোর শতভাগ সরবরাহ সক্ষমতা দেশীয় মিলগুলোর রয়েছে। এই প্রস্তাব দেওয়ার আগে সরকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন।
বিটিএমএ সভাপতি জানান, এর আগেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা একমত হয়েছিলেন যে, যেসব সুতা শতভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব, সেগুলো বন্ড সুবিধার বাইরে আনা যেতে পারে। অথচ সেই সমঝোতাকে উপেক্ষা করে এখন বিষয়টিকে একতরফা সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা কাম্য নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ করতে হবে। একই ধরনের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এ প্রেক্ষাপটে দেশীয় স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।
বিটিএমএ সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দেশের শিল্পখাতকে অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।


