তূর্ণা ও প্রভাতী পাচ্ছে লাল-সবুজ কোচ
সোনারবাংলা, পারাবত ও তিস্তা এক্সপ্রেসের পর এবার লাল-সবুজ চেহারায় সাজছে তূর্ণা-নিশীথা ও মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেন। পাহাড়তলি ও সৈয়দপুর কারখানায় চলছে নতুন কোচগুলোর শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা। নতুন এ লাল-সবুজ কোচ দিয়ে সিলেট রুটে ননস্টপ ট্রেন চালানোর দাবি এসেছে রেল ভবনে। আর রংপুর রুটের ট্রেনগুলোতে পুরাতন রেক বদলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
তবে শেষ পর্যন্ত ‘ডিও লেটার’ বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রেলমন্ত্রী-এমনটা জানাচ্ছে রেল ভবন।
রেল বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান জানান, রেলের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাহাড়পুর ও সৈয়দপুর কারখানায় প্রস্তুত শেষে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলেই কোচগুলো তূর্ণা-নিশীথা ও মহানগর প্রভাতীতে দেওয়া হবে।
ব্রডগেজ লাইনের আরও কয়েকটি ট্রেনও নতুন কোচ পাবে। এ কোচগুলো সৈয়দপুর কারখানায় প্রস্তুত প্রায়।
রেলের সৈয়দপুর কারখানা সূত্র জানায়, সেখানে এই মুহূর্তে ট্রেনে যোগ করে দেওয়ার মতো ৫০টি নতুন লাল-সবুজ কোচ রয়েছে। যেগুলোর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। এর মধ্যে ১৪টি কোচ ট্রায়াল রান শেষে কারখানায় জায়গা না হওয়ায় পাহাড়পুরে রাখা হয়েছে। বাকি ৩৬টি সৈয়দপুর কারখানার ভেতরেই আছে। এগুলোর টুকটাক যেসব কাজ বাকি আছে সেগুলো করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (প্রকল্প) দুলাল কুমার রায় জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে অর্ডার করা ১৫০টি কোচের সবগুলো এসে গেছে। এসব কোচ দিয়ে প্রথম নতুন ট্রেন সোনারবাংলা পরে পারাবত ও তিস্তা এক্সপ্রেসে দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ান এসব কোচগুলো রেলের সবশেষ বিলাসবহুল সংযোজন।
রেলভবনের তথ্যে দেখা যায়, এ বছর শেষ হওয়ার আগেই রেলের বহরে সবমিলিয়ে যোগ হবে ২৭০টি বিলাসবহুল কোচ। এর মধ্যে ভারত থেকে মোট ১২০টি ব্রডগেজ কোচ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৫০টি কোচ আসবে। ভারত থেকে প্রথমে ৬০টি কোচ এসে গেছে। বাকি আরও ৬০টি আসছে খুব শিগগিরই। বেনাপোল হয়ে ভারতীয় কোচগুলো সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে এসে যাবে। এরপর বেনাপোল থেকে ঈশ্বরদী নিয়ে যাওয়া হবে।
ভারতের থেকে আনা কোচগুলো পাঞ্জাবের কাপুরথালা কারখানায় তৈরি করা। এগুলো অস্ট্রিয়ান টেকনোলজিতে তৈরি লিংক হোপম্যান বুশ (এলএইচবি) ব্র্যান্ডের। এগুলো প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই আসছে।


