২০২৫ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকের ৯০১ কোটি টাকার নিট মুনাফা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালে ৯০১ কোটি টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে। আগের বছরের তুলনায় ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে ২০ শতাংশ।
এ সময়ে ব্যাংকটির অন্যান্য আর্থিক সূচকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আলোচ্য বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৮ শতাংশ লভ্যাংশ (২৫ শতাংশ নগদ ও ৩ শতাংশ স্টক) ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ইস্টার্ন ব্যাংকের পর্ষদ।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে ইস্টার্ন ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫৫ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ব্যাংকটির ঋণ ও অগ্রিম ১৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। গত বছর ইস্টার্ন ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
২০২৫ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণও কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এ সময়ে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ আগের তুলনায় কমে ২ দশমিক ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যেখানে ব্যাংক খাতের গড় খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। ব্যাংকটির রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। কস্ট টু ইনকাম অনুপাত হয়েছে ৪০ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
গত বছরে মূলধন ভিত্তি আরো শক্তিশালী করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির একক ভিত্তিতে ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটের অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৬৫ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৭০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৮৬ পয়সায়।
আর্থিক ফলাফলের বিষয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও আয়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির দৃঢ়তা ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক কাঠামোর প্রতিফলন। সুশৃঙ্খল ব্যালান্স শিট ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার কারণে ২০২৫ সালে ব্যাংকের প্রধান সূচকগুলোয় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকের এ পারফরম্যান্স আর্থিক শক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ধারাবাহিক রিটার্ন দেয়ার সক্ষমতাকে পুনরায় প্রমাণ করেছে।
সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ১৭ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ইস্টার্ন ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৮৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৫১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৬৩ পয়সায়।
১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৯৫ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৬৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৩ হাজার ৩৮৮। এর ৩১ দশমিক ৪৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪০ দশমিক ৮৪, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ৬৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার সর্বশেষ ২৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২০ টাকা ৭০ থেকে ২৮ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।


